কন্টেইনার জটের শঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দর

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক কাস্টমসের দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত করায় কমে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনার ডেলিভারি। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনারের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বন্দরে কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুকের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণ ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন স্বাভাবিক নিয়মে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। তবে গত চার দিন ধরে কন্টেইনার ডেলিভারি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার টিইইউসের (টোয়েন্টি-ফুট ইক্যুইভেলেন্ট ইউনিট) ওপরে কন্টেইনার ডেলিভারি হতো সেখানে এখন তা নেমে এসেছে এক হাজার থেকে ১৪শ’র মধ্যে। কিন্তু প্রতিদিন দ্বিগুণ কন্টেইনার এর ফলে ইয়ার্ডে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে আরও ৪-৫ দিন চললে কন্টেইনার রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা কন্টেইনার রাখার জন্য নতুন নতুন জায়গা খুঁজছি। ওভার ফ্লো ইয়ার্ডেও কন্টেইনার রাখা যায় কি না তা দেখছি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা দশ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে লোকজনকে বাসাবাড়িতে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে। যার ফলে ২৬ মার্চ থেকে অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়ে শহর। করোনা আতঙ্ক ও লম্বা ছুটির কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায় সরকারি- বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ। বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ শিল্প-কারখানা। এর ফলে কমে যায় বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২৪ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এক অফিস আদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন সীমিত আকারে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাস্টমস হাউজগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবাসামগ্রী শুল্কায়নসহ খালাস প্রদান এবং রপ্তানি ও ইপিজেডের কার্যক্রম সচল রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। আমদানি সংশ্লিষ্টরা জানান, এ নির্দেশনার কারণে শিল্পের কাঁচামাল এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আমদানি করা পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। যে কারণে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার খালাস হ্রাস পায়।

বন্দর সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার টিইইউসের বেশি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। সাধারণ ছুটি শুরুর আগের দিনও ৪ হাজার ৯১১ টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ছুটির শুরুর প্রথম চার দিনে ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৮ টিইইউস কন্টেনার। এর মধ্যে ২৬ মার্চ ১ হাজার ৪২৩ টিইইউস, ২৭ মার্চ ৯০৬ টিইইউস, ২৮ মার্চ ১ হাজার ২৮৬ টিইইউস ও ২৯ মার্চ ১ হাজার ৩৯৩ টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশে শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার আমদানি পণ্য খালাসের নির্দেশনা না থাকায় পণ্য আমদানি পণ্যের ডেলিভারি কমে গেছে। তিনি জানান, গতকাল সোমবার এনবিআর থেকে জারি করা নতুন এক আদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও সেবা সামগ্রীর পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আমদানি করা পণ্য খালাসের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আশা করছি এ নির্দেশনার ফলে কন্টেইনার ডেলিভারি কিছুটা বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কন্টেইনার ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ধারণক্ষমতার ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। কিন্তু সোমবারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এখন বন্দরে কন্টেইনারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৬৯ টিইইউস। আর ১০ হাজার টিইইউস কন্টেইনার বাড়লে এর পরিমাণ বন্দরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে। এতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।