করোনার দিনে হঠাৎ আনন্দে আত্মহারা আতিফ

একের পর এক গাড়ি যাচ্ছে। সব গাড়িকেই 'হ্যালো, থ্যাংক ইউ' বলছে আনন্দে আত্মহারা এক ছোট্ট শিশু। উল্টো দিক থেকেও আসছে প্রতি-উত্তর। এমন দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড রাজ্যের জার্মানটাউনের মন্টগোমারী কাউন্টি এলাকার।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন দিশাহারা আমেরিকা তখন এমন দৃশ্য যেন মুহূর্তেই মন্টগোমারী এলাকার বাসিন্দাদের কিছু সময়ের জন্য আনন্দে ভাসিয়ে দিয়ে গেল।

ছোট্ট শিশুটির নাম আতিফ। তার বাবা মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায় ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। তাতে দেখা যায় এই দৃশ্য।

পারভেজ বলেন, “এই দুঃসময়ে কমিউনিটিকে চাঙা করে তোলার জন্য আতিফের স্কুল শিক্ষকেরা ‘কার র‍্যালি’ আয়োজন করেছে। মূলত শিশুদের বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের কিছুটা আনন্দ দেওয়ায় উদ্দেশ্য। শিক্ষকদের এই কাজটি আমাদের সবাইকে উৎফুল্ল করে তুলেছে। ২ সপ্তাহ পর যেন সবাই জেগে উঠেছে।”

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ম্যারিল্যান্ডের সব স্কুলই বন্ধ। অন্যদের মতো ২৪ ঘণ্টা বাড়ির ভেতরেই থাকতে হচ্ছে আতিফকে। জার্মানটাউনের রন্যাল্ড ম্যাকনাইয়ার ইলিমেন্টারী স্কুলের সেকেন্ড গ্রেডে পড়ে আতিফ। হঠাৎ করেই স্কুল শিক্ষকদের বাড়ির সামনে আসার মুহূর্তটি ভীষণ আনন্দ দিয়েছে বলে জানায় সে। এমন দৃশ্য দেখে সে আত্মহারা।

কভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে এখন শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দেশটির বাসিন্দারা। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবরও আসছে প্রতিদিন। সেই মুহূর্তে স্কুলের এমন উদ্যেগে কিছুটা সময় আতঙ্ক ভুলেছে শিশুরা ও তাদের পরিবার।

মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, “ম্যারিল্যান্ডে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে মন্টগোমারী কাউন্টি এলাকায় ২৯৫ জন আক্রান্ত। আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউইয়র্কে। সেখানে কয়েকজন বাংলাদেশিও মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আমরা বাসাতেই অবস্থান করছি৷ প্রায় দুই সপ্তাহ পর ঘরের বাইরে আসা। এখানে আমার বাবা, মা, শাশুড়ি, বউ বাচ্চা নিয়ে থাকি। সবাই মিলে সচেতন থাকার চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে দোয়া করছি, বিশ্ব যেন এই মহামারি থেকে শিগগিরই মুক্তি পায়।”