করোনা সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে শত শত কর্মহীন অভাবী নারী-পুরুষ ত্রাণের আশায় শহরে ছুটে আসছে। তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে শহরে প্রতিদিনই অভাবী মানুষের ভিড় বাড়ছে।
এ ভিড় সামলাতে পুলিশ-আনসার সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের খবর পেলেই ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসছে এ সব মানুষ। দেখা যায় শত শত অভাবী ও কর্মহীন নারী-পুরুষ উপজেলা চত্বরে এসে ভিড় জমিয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বললেও তারা তা না মেনে দাঁড়িয়ে হুড়োহুড়ি করতে থাকে ত্রাণের আশায়।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ত্রাণ দেওয়া শুরু হলেও অনেকেই ত্রাণ না পেয়ে শূন্য হাতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। অনেকে ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদেরই একজন হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের ডায়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রমেলা খাতুন (৪৫) জানান, ছোট ছোট ৩ সন্তান সহ তাকে ছেড়ে বহু আগেই স্বামী পালিয়েছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে পেট চালাই। এখন হাতে কাজ নাই। ত্রাণ না পেলে খাব কি।
এ বিষয়ে কথা হয় পৌর এলাকার ঋষিপাড়া মহল্লার ষাটোর্ধ্ব বিধবা কানন বালা দাস, গীতা দাস, ডলি দাস, সন্ধ্যা দাস ও দুলালি দাসের সঙ্গে। তারা জানান স্বামী নাই তাই উপার্জনের লোকও নাই। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জীবিকা চালাই। এখন সবারই অভাব, তাই কেউ কিছু দিচ্ছে না। ফলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাচ্ছে। তাই করোনার ভয় উপেক্ষা করেই সকাল থেকে ত্রাণের আশায় এখানে বসে আছি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌর এলাকা সহ ১৩টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৮০০ কর্মহীন অভাবী পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল ,হাফ কেজি ডাল, হাফ কেজি লবণ, হাফ লিটার তেল ও ১ কেজি আলু। আগামী সপ্তাহে আবারও বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন বাকিদের দেওয়া হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হলেও আমরা প্রথম ধাপে যাদের খুব বেশি প্রয়োজন তাদেরই দিয়েছি। আগামী সপ্তাহে আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাকিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।