ছোট অপরাধের বন্দিদের মুক্তির উদ্যোগ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ছোটখাটো অপরাধে কারাগারে থাকা বন্দিদের মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে কারা বিধি মেনে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ও হাজতিদের তালিকা করেছে কারা অধিদপ্তর। এসব তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর আদালতের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা দেশ রূপান্তরকে বলেন,

‘কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি অনেক বেশি। করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে জায়গা খালি করার জন্য বন্দির সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ভালো আচরণ, বয়স, সাজা খাটার মেয়াদ, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস বাকি ইত্যাদি বিবেচনায় প্রতি মাসেই আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠাই। কারা বিধি মেনে এবারও দুই ধাপে মুক্তির জন্য প্রায় সাড়ে ১৪শ বন্দির তালিকা করা হয়েছে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, বিজয় দিবস ও ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে যেভাবে বন্দি মুক্তি দেওয়া হয়, তাদের সেভাবেই মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই তালিকার বাইরে ছোটখাটো অপরাধে বন্দি, জামিনযোগ্য মামলার আসামি, বয়স্ক এবং নারী হাজতিদের (যাদের এখনো সাজা হয়নি) মুক্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়। এখনই সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিন হাজারও হতে পারে; আবার পাঁচ হাজার হাজতিও মুক্তি পেতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে এখনো কাজ চলছে।’

তবে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আবরার হোসেন বলেন, ‘তিন হাজারের সামান্য বেশি হাজতির নাম প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে আপত্তি না থাকলে পাঠানো হবে আদালতে। জামিনের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারকই সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ মুক্তির বিষয় বিচারকের হাতে, আমাদের হাতে নয়।’

এদিকে গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কারাগারে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কোনো তথ্য নেই। তবে সংক্রমণ রোধে সতর্কতার অংশ হিসেবে কারও সর্দি-কাশি, জ¦র, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে, তাকে কারাগারের আলাদা কক্ষে রাখা হচ্ছে। সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে এ রকম ৪০ বন্দিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, সিলেট, ফেনী ও দিনাজপুর জেলা কারাগারে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। আপাতত স্বজনদের সঙ্গেও বন্দিদের সাক্ষাৎ সীমিত করা হয়েছে। তবে বন্দিরা যাতে স্বজনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন না হন, সে জন্য জরুরিভাবে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বন্দি ও কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিদেশফেরত স্বজনকে কারা এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারা এলাকায় প্রবেশকারী সবার জন্য হ্যান্ডওয়াশ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজে যোগ দেওয়ার আগে সবার হাত, বুট জুতা, জামা জীবাণুমুক্ত ও নিয়মিত দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। কারাফটকেই প্রত্যেক বন্দিকে পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। আর নতুন বন্দিকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।