লালমনিরহাটে সবজি, দুধ নিয়ে বিপাকে কৃষক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনায় লালমনিরহাটের হাটবাজারগুলোতে গণজমায়েত ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শুধু ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদি দোকান, কৃষি উপকরণের জন্য সারের দোকানগুলো খোলা রয়েছে। বিশেষ করে খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানগুলোতে এ অঞ্চলের অধিকাংশ খামারিরা দুধ সরবরাহ করে থাকেন। এসব দোকান বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলার ছোট-বড় দুগ্ধখামারি ও সবজিচাষিরা।

এ অবস্থায় দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারিরা রয়েছেন চরম বেকায়দায়। দুধ বিক্রি করতে না পারায় অনেক খামারির দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চাষিরা পাইকারি ক্রেতার অভাবে অনেকটা বাধ্য হয়ে কম দামেই সবজি বিক্রি করছেন।

জেলা সদরের মোগলহাট ও আদিতমারী উপজেলার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতার অভাবে জমিতেই কিছু ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মোগলহাট এলাকার কৃষক হামিদ আলী বলেন, এখনো তার এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি রয়েছে। সেগুলো ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পারায় নষ্ট হতে চলেছে। আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চরিতাবাড়ী এলাকার বেগুনচাষি আজাহার আলী বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পারায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন দেড় থেকে দুই টাকা দরে বিক্রি করতেও ক্রেতা মিলছে না।’

পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর কাঁঠালতলা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন ও জোংড়া ইউনিয়নের কৃষক হেলাল হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে শাকসবজির দাম একেবারেই কম। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দামও অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমাদের এবার লোকসান গুনতে হবে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬-৭ টাকা, পুঁইশাক বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮ আর বাঁধাকপি প্রতিটি ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আদিতমারী উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার দুগ্ধখামারি কমল কান্ত বলেন, প্রতিদিন তার খামারে ৫০ লিটার দুধ হয়। বর্তমানে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।  পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের দুগ্ধখামারি একরামুল হক জানান, এ অবস্থা চলতে থাকলে খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে জানান তিনি।