ফেব্রুয়ারিতে চীনে করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নেওয়ার পর ১ টাকা দামের ওয়ানটাইম বা একবার ব্যবহার উপযোগী সার্জিক্যাল মাস্কের দাম উঠে যায় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাজার থেকেই উধাও হয়ে যায় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ক্রেতারা টাকা নিয়ে ঘুরেও কিনতে পারেননি হঠাৎ অতি জরুরি হয়ে ওঠা পণ্যগুলো। সংকট দেখা দেয় সার্জিক্যাল গ্লাভসেরও। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) সংকট এত বেশি ছিল যে, চিকিৎসকরাই তা পাচ্ছিলেন না। সাধারণ মানুষও পিপিইর সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এই সুযোগে মানহীন কাপড় সেলাই করে পিপিই বানিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন একশ্রেণির দর্জি। এসব পিপিই ৯০০ থেকে ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত তিন সপ্তাহের মাথায় এসব পণ্যের সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্কের সংকট এখনো থাকলেও সাধারণ কাপড়ে তৈরি দুই স্তরের মাস্ক সরবরাহ বিপুল মাত্রায় বেড়েছে। আর নতুন করে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করে বাজারজাত শুরু করার পর বাজারে এর সংকট কেটেছে। চাহিদা অনুযায়ী হেক্সিসল ও স্যাভলন হ্যান্ড রাব পাওয়া না গেলেও অন্যান্য কোম্পানির উৎপাদিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার এখন নির্ধারিত দরে রাজধানীর বিভিন্ন ডিসপেনসারিতে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা না থাকায় আগে সাধারণ ডিনপেনসারিগুলোতে সার্জিক্যাল গ্লাভস বিক্রি হতো না। সাধারণত যেখানে হাসপাতাল রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করা হয়, ওইসব হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলোতে সার্জিক্যাল গ্লাভস পাওয়া যেত। এখন রাজধানীর বেশিরভাগ ডিসপেনসারিতে ওয়ানটাইম ব্যবহার উপযোগী গ্লাভস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পিপিই অনলাইনে বিক্রি করছেন অনেকে।
বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তীব্র চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোং বাণিজ্যিকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছে। যমুনা ডিস্টিলারি লিমিটেডও মানসম্পন্ন হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছে। করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার পর আরও বিভিন্ন কোম্পানি হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করে বিক্রি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করে বিনামূল্যে সরবরাহ করছে।
রাজধানীর শাহজাদপুরের মসজিদ রোডের মা ফার্মেসির মালিক ফয়সাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগেও অর্ডার দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভস পাওয়া যেত না। এখন সরবরাহ অনেক বেড়েছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে পারছি। বেশিরভাগ কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজার নির্ধারিত দরেই পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর রমনা এলাকার লাজ ফার্মার একজন বিক্রয়কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্লাভসের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। এখন বেশ কিছু নতুন কোম্পানি এসব উৎপাদন করে সরবরাহ করছে। তবে আমরা একজনকে একসঙ্গে ৫ জোড়ার বেশি ওয়ানটাইম গ্লাভস দিচ্ছি না। বেশিসংখ্যক ক্রেতার চাহিদা মেটাতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অধিক ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রেক্ষিতে বাজারে কাপড় কাঁচার সাবান, সার্ফ এক্সেল, হুইল ও রিন পাওয়ারের চাহিদা বেড়ে গেছে। ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি জীবাণুনাশক হওয়ায় হঠাৎ করে ব্লিচিং পাউডারের চাহিদাও বেড়ে গেছে।