কন্টেইনারে ভরা ইয়ার্ড

কন্টেইনারে ভরে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের সব ইয়ার্ড। এতে ব্যাহত হচ্ছে পরিচালন কার্যক্রম। ক্রমশ কমে যাচ্ছে উৎপাদনশীলতা। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারে অঘোষিত লকডাইনে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বন্দর ইয়ার্ডে জমে যাওয়া আমদানি পণ্যের কন্টেইনারগুলো দ্রুত ডেলিভারির ব্যবস্থা করা না হলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরে জটেরও সৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে কন্টেইনার ডেলিভারি কমে যাওয়ায় ইয়ার্ডে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা প্রাইভেট কন্টেইনার ডিপোগুলোকে চিঠি দিয়ে লোড কন্টেইনারগুলো নিজেদের ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তাছাড়া আমরা ওভার ফ্লো ইয়ার্ডসহ ভেতরে বিভিন্ন খালি জায়গায় কন্টেইনার রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সব ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। পরিচালন কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে ইয়ার্ডে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি থাকতে হয়। আর এখন খালি আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এখন বন্দর ইয়ার্ডে ৪৫ হাজার টিইইউস কন্টেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইয়ার্ডের ভেতরে জায়গার সংকটের কারণে জাহাজ থেকে আমদানিপণ্যের কন্টেইনার নামানো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্দর সূত্র

জানায়, স্বাভাবিক সময়ে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হলেও এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ে তা নেমে এসেছে ২৫ শতাংশে, এক হাজারের কোটায়। ফলে মাত্র ৯ দিনে বন্দর ইয়ার্ডে প্রায় ১০ হাজার টিইইউস কন্টেইনার বেড়েছে। বন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গত ৮ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোট কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে ১২ হাজার ৫১২ টিইইউস। স্বাভাবিক সময়ে মাত্র তিন দিনে এর সমপরিমাণ কন্টেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। এদিকে কন্টেইনারজটের কারণে জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামানোর গতি কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ৭২টি। আর গতকাল সেটা পৌঁছেছে ১০৭টিতে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতিরিক্ত কন্টেইনার জমে যাওয়ার কারণে বন্দরে এখন নতুন কন্টেইনার রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। যে কারণে জেটিতে জাহাজ থাকলেও পূর্ণ ক্ষমতায় কন্টেইনার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা বিভিন্নভাবে জায়গা খালি করে কন্টেইনার রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। অকশন কন্টেইনারগুলো ওভার ফ্লো ইয়ার্ডে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে এই মুহূর্তে যত দ্রুত সম্ভব আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারি হওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জটের কারণে শিপ হ্যান্ডলিংয়ের গতি কমে গেলে জাহাজজট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাধারণত জেটিতে ভেড়ার পর একটি জাহাজ কন্টেইনার লোড-আনলোড শেষ করতে তিন দিন সময় লাগে। কিন্তু কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের শ্লথ গতির কারণে যদি তিন দিনের জায়গায় ৪-৫ দিন অবস্থান করতে হয় তাহলে বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষমাণ জাহাজের জট সৃষ্টি হতে পারে।