গুজবের গডফাদার ক্রিস্টোফার ব্লেয়ার

করোনা মহামারীর মধ্যে মিথ্যা খবরের প্রকোপ বেড়ে গেছে অনেক। কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা বাছাই করতে হিমশিম পাঠক। অথচ মিথ্যা খবর হয়ে উঠেছিল একজনের পেশা। ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পাঠকদের দ্বিধায় ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল ক্রিস্টোফার ব্লেয়ারের। চাকরি হারিয়ে সংসার চালানোর জন্য এ রাস্তা বেছে নিলেও একসময় মিথ্যা খবরের দুনিয়ার গডফাদার হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়। বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ইন্টারনেট জুড়ে মিথ্যা খবর

‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে আড়ি পাতায় বারাক ওবামা আটক’, ‘উদ্বাস্তুদের পাচার করতে গিয়ে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের জাহাজ আটক’ এ ধরনের খবর যদি হুট করে চোখে পড়ে, খুব স্বাভাবিকভাবে পাঠক চমকে যান। মনে আসতে পারে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা আর কী কী করতে পারেন? হাজার ছাড়িয়ে লাখের ঘরে শেয়ার হতে পারে এই খবরগুলো। বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হতে পারে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। মজার বিষয় হচ্ছে, পাঠক যখন এই খবরগুলো পড়ে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, ঠিক তার অন্যপাশে বসে একজন ব্যক্তি এসব চিত্র দেখে আনন্দিত হচ্ছেন। কারণ এ খবরগুলো যে তারই বানানো! তিনি এগুলো লিখছেন, ছবি বানাচ্ছেন, পোস্ট করছেন, শেয়ার করছেন সবার মধ্যে। অথচ এই খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। লোকচক্ষুর আড়ালে বসে যিনি এই খবরগুলো তৈরি করছেন, তার নাম ক্রিস্টোফার ব্লেয়ার। তার তৈরি খবর এত জনপ্রিয় হয় যে, মিথ্যা খবরের কারিগর অন্য লেখকরাও লাভের আশায় নিজেদের ওয়েবসাইটে সেগুলো ব্যবহার করেন।

মিথ্যা খবরের ওয়েবসাইট

ক্রিস্টোফার মিথ্যা খবর প্রকাশ করার জন্য ‘দ্য লাস্ট লাইন অব ডিফেন্স ডট অর্গ’ নামে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। একে ইন্টারনেট জগতে মিথ্যা খবরের ভাণ্ডার বললে ভুল হবে না। তবে নিজের নামে তিনি লেখেন না। খবর প্রকাশের জন্য তিনি বেশ কিছু ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। তার মধ্যে আছে ইজকেল ওয়াইলকেনমেয়ার, ক্রিস্টোফার লাইম্যান, স্ট্রাইকার, বুস্টা ট্রল ইত্যাদি। এই সাইটটি ক্রিস্টোফার খুলেছেন কেবল পাঠক যেন অদ্ভুত খবর পড়তে পারে সেজন্য। পরিচয় প্রকাশ হলে তিনি বিব্রত হবেন কি-না সেটি আসলে ক্রিস্টোফারকে ভাবায় না। তার মতে, পরিচয় সামনে এলেও মানুষ কিছুদিন তাকে মনে রাখবে, এরপর ভুলে যাবে। কিন্তু মিডিয়া চলমান। এখানে খবর আসা-যাওয়া করবে। তিনি মিথ্যা খবর লিখলেও এ খবর থেকেই তার বেঁচে থাকার উপার্জন জোগাড় হয়।

ওয়েবসাইটে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময়, ১০০টিরও বেশি মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়, যেগুলো বেশ বিভ্রান্তিকর ছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগই লিখেছিলেন ক্রিস্টোফার। তার লেখা খবরগুলো পাঠকরা যেমন পছন্দ করেন, তেমনি প্রচুর কপিও হয় বিভিন্ন জায়গায়। আলবেনিয়া ও মেসিডোনিয়ায় মিথ্যা খবর নিয়ে কিছু ওয়েবসাইট আছে, যারা ক্রিস্টোফারের লেখা খবর প্রচুর কপি করে, তবে তার কোনো ধরনের ক্রেডিট সেখানে দেওয়া হয় না। এই সাইটগুলো চালায় বেশ কয়েকজন তরুণ। তিনি যখন বুঝতে পারেন, নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা খবরগুলো নিয়মিত তাদের সাইটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তখন বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তার ওয়েবসাইটে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে দিলেন। অবাক লাগছে না শুনে? একজন মিথ্যা খবরের কারিগর নিজের ওয়েবসাইটে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তৈরি কর দেন! যেহেতু নিজের সংসার চালানোর খরচ এখান থেকে আসে, তাই এটা নিয়ে অন্য কেউ লাভবান হোক, তা চান না ক্রিস্টোফার।

দায়িত্ব পাঠকের

ক্রিস্টোফার দাবি করেন, তার ওয়েবসাইটটি একপেশে নয়, বরং এটিকে উদার মনের বহিঃপ্রকাশও বলা যায়। তিনি সাইটের ডান এবং বামপাশ জুড়ে সত্য-মিথ্যা দুই ধরনের খবরই রাখতেন, পাঠক কোনটা বেছে নেবেন, সেটা তার বিষয়। এই সাইটে সব সময় প্রচুর পাঠকের আনাগোনা থাকত। কখনো কখনো মাসে এক মিলিয়ন দর্শক সাইটটি ঘুরে দেখতেন। একটি খবরের কথা ক্রিস্টোফার বেশ ভালো মনে করতে পারেন। সেটি হচ্ছে, ‘নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের পক্ষে ফ্লোরিডা’। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বিকেল ৩টার দিকে একটি পোল প্রকাশ করেন তিনি। তাতে ক্লিক পড়ে পাঁচ লাখ। ক্রিস্টোফার খবর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালেও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভুল কিছু লেখেননি। ক্রিস্টোফার বিশ্বাস করেন, একজন সত্যিকারের পাঠক তার লেখা খবর পড়লেই বুঝতে পারে তিনি মিথ্যা লিখেছেন। পাঠককে জোর করে বিশ্বাস করানোর কোনো চেষ্টা তিনি কখনো করেননি। অনেকেই খবর পড়ে আগে গুগল চার্চ করে দেখে সেখানে এ বিষয়ে কিছু আছে কি না, না পেলে এই সাইটের লিংক দেখলেই বুঝে যায় এটা সত্য নয়।

ডার্টমাউথ কলেজের প্রফেসর ব্রেনড্যান নায়হান বলেন, মিথ্যা খবরে বিভ্রান্ত হয়ে কারও ক্ষতি হবে না এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। যারা মিথ্যা খবর প্রকাশ করছে তারা সবাই বলে, সত্যিকার পাঠক সত্য-মিথ্যা বুঝতে পারেন। কিন্তু এটা যে সঠিক সে বিষয়েও কোনো গবেষণা নেই। এটা শুধু কিছু খবরে বিভ্রান্তি তৈরি করা আর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে অর্থ উপার্জন করা এই তাদের বক্তব্য। এমন মতামত বোস্টন ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ বিষয়ের অধ্যাপক মিশেল আমাজিনেরও। তিনি বলেন, মিথ্যা খবরগুলো মিডিয়াকে আনেক বেশি প্রভাবিত করতে পারে। সত্য-মিথ্যার দ্বিধায় আটকে যেতে পারে পাঠক নিজেও। পাঠক শুরুতে যতই বিশ্বাস করুক সেগুলো মিথ্যা, বারবার মিথ্যা খবর পড়তে পড়তে একসময় সেগুলোই সত্য বলে মনে হতে থাকে তাদের। এগুলো তার ভেতর মানসিক চাপ তৈরি করে। একের পর এক মিথ্যা খবর প্রচারে ক্রিস্টোফার পুনরাবৃত্তি তৈরি করেন। পুনরাবৃত্তি জনপ্রিয়তা তৈরি করে। জনপ্রিয়তা বিশ্বাস বাড়ায়।

মিথ্যা খবরের গডফাদার হলেন যেভাবে

ক্রিস্টোফার ব্লেয়ার জন্মগ্রহণ করেন ম্যাসাচুসেটসের শহর লোয়েলে। খুব সাধারণভাবে জীবন কেটেছে তার। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সাজানো সংসার। ২০০৮ সালে ম্যাসাচুসেটসে যখন অর্থনীতি ধসে পড়ল, তখন তিনি কাজ হারান। পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে ভীষণ কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সম্পূর্ণ দোষ দেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সেক্টরগুলোতে তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। এরপর বারাক ওবামার বিজয়ের পর বুস্টা ট্রলের জন্ম হয়। ২০০৯ সালে টি পার্টি (ট্যাক্স পেইড অলরেডি) আন্দোলনের সময়কেই ক্রিস্টোফার বেছে নেন। অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারলেন মানুষ মজার খবর পড়তে পছন্দ করে।

২০১৪ সালে, একটি রঙ্গকৌতুকের মাধ্যমে ক্রিস্টোফারের কাজ আরও বেগবান হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আটক বোয়ি বার্গডাল নামে একজন সেনা সদস্যের বিনিময়ে পাঁচজন তালিবান কয়েদিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চুক্তি করে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান। ঠিক এ সময় ফেইসবুকে বার্গডালের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করে একটি পেজ খোলা হয়। ফেইসবুক পেজটির নাম ছিল ‘বোয়ি বার্গডাল কোনো নায়ক নন’। ১ জুন পেজটি তৈরি হয়, ঠিক তার এক দিন পর বার্গডোল মুক্তি পান। মাত্র দু-এক সপ্তাহের মধ্যে পেজটি বার্গডাল ও ওবামাবিরোধী পোস্ট দেওয়া শুরু করে। এর কিছুদিন পর ক্রিস্টোফার বুস্টা ট্রল নামে পেজটি হ্যাক করেন। দ্রুত পেজের সব ছবি বদলে সব জায়গায় ছাগলের ছবি দিয়ে ভরিয়ে দেন। এটি নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে সে সময় লেখালেখিও হয়েছিল। এই পেজটির সাহায্যে ক্রিস্টোফার অনেকের আস্থা অর্জন করেছিলেন। পোস্টের প্রতিটি কমেন্টে বেশ ভালোভাবে নজর রাখতেন। পরে এ পেজের পুরো কর্র্তৃত্ব তার হাতে চলে আসে। এরপরই তিনি কাজের জন্য নতুন দিশা পান।

কনস্ট্রাকশনের চাকরি চলে গেলে ক্রিস্টোফার ব্লগ পোস্ট লেখা শুরু করেন। প্রথমে কাজ করেছেন ফক্স নিউজের উপস্থাপক অ্যালান কলমসের সঙ্গে, এরপর যোগ দেন ইনফো নেটওয়ার্কে। কিন্তু কোনো কাজে খুব একটা আনন্দ পাচ্ছিলেন না। পরে চালু করেন ‘দ্য রেজিসটেন্স : দ্য লাস্টলাইন অব ডিফেন্স’ নামে ব্লগ সাইট। এই কাজে বেশ আনন্দ পাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ওয়েবসাইটটি তাকে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কারণ তিনি ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন কিছু দর্শকের জন্য। বিজ্ঞাপনের লক্ষ সেই দর্শক যাদের ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমেরিকান টক শোর উপস্থাপক সিন হ্যানিটিকে পছন্দ করেন, তারাই কেবল এই বিজ্ঞাপনের অন্তর্ভুক্ত হবেন। খুব দ্রুত ফেইসবুকে শেয়ার করা খবরগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। বিভিন্ন ব্লগের মাধ্যমে ক্রিস্টোফার দ্রুত মিথ্যা খবর ছড়ানো শুরু করলেন। চটকদার শিরোনাম দেখে পাঠক খবরগুলো ছড়ালেও ভেতরে গেলেই বোঝা যেত খবরগুলো এক রকম বিদ্রুপাত্মক ছিল। ফেইসবুকের মাধ্যমে ক্রিস্টোফারের ওয়েবসাইটে দর্শক প্রবেশের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে লাগল। বেশ আলোচনাও হচ্ছিল এটি নিয়ে। সাইট বহু হলেও ফেইসবুকে নিজের কাজ ঠিকই চালিয়ে গেছেন ক্রিস্টোফার।

ফ্যাক্ট চেকার মার্টিন শেংক

ক্রিস্টোফার যখন ফেইসবুকে মিথ্যা খবরের শিরোনাম ছড়াচ্ছেন, তখন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বসে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন ফ্যাক্ট চেকার মার্টিন শেংক। তিনি খেয়াল করলেন, একটি নির্দিষ্ট খবর দ্রুত ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত শেয়ার হচ্ছে। শেংক নিজের ওয়েবসাইটে গিয়ে লেখা শুরু করলেন বিষয়টি নিয়ে। তার কাজ ছিল তিনি অনলাইনে যা দেখছেন, তা বিশ্ববাসীকে জানানো। যে খবরটি তিনি দেখেছিলেন সেটি হচ্ছে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের জাহাজ অবৈধভাবে ওষুধ, অস্ত্র ও দাসী আনা-নেওয়া করছে। শেংক বুঝলেন তিনি একটি মিথ্যা খবর পড়ছেন। শেংক ছিলেন মূলত একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। তিনি ট্রেন্ডোলাইজার নামে একটি সফটওয়্যার বানিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে ফেইসবুকে কোন খবরগুলো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে, তা জানা যেত। তিনি এটি নিয়ে নিজের ব্লগ লিড স্টোরিজে লেখালেখি করলেও সেটি নিয়ে কেউ তেমন সাড়া দেননি। তিনি কোনো মিথ্যা খবর পেলে সেটি নিয়ে লেখালেখি করতেন, তার সাইটে দর্শক আসত। কিন্তু ক্রিস্টোফারের মতো খুব বেশি অর্থ তিনি পেতেন না। মিথ্যা খবরের বিষয়টি সামনে আসার পর সেটি নিয়ে ভাবতে থাকেন শেংক। খেয়াল করেন, প্রতি শনিবার, কোনো একজন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী দুর্ঘটনায়, নৌপথে অথবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন, এ ধরনের খবর প্রকাশ করা হয়। এবার তিনি খবরের পেছনের মানুষদের খুঁজতে শুরু করেন। যেসব ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক থেকে মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে, সবকিছু ট্র্যাক করা শুরু করেন। সন্ধান পেতে থাকেন মেসিডোনিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের মিথ্যা খবর প্রকাশের ওয়েবসাইটের। লক্ষণীয় বিষয় ছিল, এরা সবাই একটি মাধ্যম থেকে খবরগুলো নিচ্ছিল। আর সেই মাধ্যমের নাম ছিল ক্রিস্টোফার ব্লেয়ার।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, টেক্সাসে হারিকেন হার্ভে আঘাত হানে এবং এলাকাজুড়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্রিস্টোফার এই সময়কে কাজে লাগিয়ে একটি মিথ্যা খবর লিখেছিলেন। টেক্সাসের একটি কল্পিত মসজিদের একজন কল্পিত ইমামকে নিয়ে তিনি লিখলেন, ইমাম মসজিদে এই দুর্যোগের সময় অমুসলিমদের জায়গা দিতে চান না। ক্রিস্টোফারের অনুসারীদের মধ্যে খবরটি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে গেল। সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। খবরে যে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি ছিল কানাডার একটি মসজিদের ইমামের ছবি। ইব্রাহিম হিন্দি নামে সেই ইমাম কখনো টেক্সাস আসেননি অথচ মিথ্যা খবরের শিকার হন। সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে নানা খবর ছড়াচ্ছিল, তিনি খুব মুষড়ে পড়েন। বুঝতে পেরে নিজের সাইট থেকে দ্রুত খবরটি সরিয়ে দেন ক্রিস্টোফার। এ ধরনের আরও কিছু খবরে শেংক দ্রুত যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন তার সঙ্গে। একসময় সত্যি পরিচয় নিয়ে সামনে আসেন ক্রিস্টোফার।

শোধরাবেন ক্রিস্টোফার

শুরুতে মিথ্যা খবর ছড়ানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি থাকলেও বর্তমানে সেটি তার মূল লক্ষ্য নয়। ফেইসবুক যতই নতুন নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসুক, তিনি চান মিথ্যা খবর এভাবেই ছড়াতে। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এখনো। ক্রিস্টোফারের কাজ নিয়ে শেংক বলেন, যত দিন ক্রিস্টোফার মিথ্যা খবর লিখে যাবেন, তত দিন তিনি তা নিয়ে মন্তব্য লিখে যাবেন। তবে ক্রিস্টোফারের কাজ বন্ধ করার মতো কিছু তিনি করবেন না। ক্রিস্টোফার বিশ্বাস করেন তিনি যা করেন, তা এক ধরনের আর্ট। অনেক সময় নিয়ে তিনি লেখার পর নিজের লেখাগুলো মন দিয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে ফেইসবুক তার পেজ বন্ধ করে দিলে ক্রিস্টোফার কনটেন্ট লেখায় ফিরে আসেন। এখানেও তিনি বেশ ভালো অর্থ উপার্জন করেন। তবে ট্রল করা তিনি বন্ধ করেননি। হয়তো কখনো করবেনও না।