তাজিকিস্তানে নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশই খেলাধুলা বন্ধ রেখেছে। গুটিকয়েক দেশ নিজেদের লিগ চালিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু নতুন মৌসুম শুরু করার সাহস দেখাচ্ছে না কেউ। ব্যতিক্রম উদাহরণ দাঁড় করালো তাজিকিস্তান। শনিবার থেকে নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু হয়েছে দেশটিতে। অবশ্য রাজধানী দুশানবেতে মৌসুমের প্রথম ম্যাচটি হয়েছে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি ছিল তাজিকিস্তানের সুপার কাপ ফাইনাল।  যাতে লিগ চ্যাম্পিয়ন এফসি ইস্তিকলোল পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে এফসি খুজান্দকে হারিয়ে শিরোপা জিতে।

বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির এমন সময়ে তাজিকিস্তানের লিগ শুরু করার সাহস দেখানোর কারণ আছে। অনেক দেশেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম তাজিকরা। দেশটিতে ভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত একটিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘোষণা আসেনি। মধ্য এশিয়ার মাত্র ৯ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি তাই খেলা চালুর সাহস দেখাতেই পারে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানেই গত মাসে দেশটি তাদের ঐতিহ্যবাহী বসন্তকালীন নওরোজ উৎসবও পালন করেছে। যাতে দুশানবের রাস্তায় নেমে এসেছিল হাজারো মানুষ।  প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন নিজেই রাস্তায় এসে জনগণের সঙ্গে এই উৎসবে যোগ দেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বে চালু থাকা মাত্র তিনটি লিগের একটি বেলারুশে। বাকি দুটি চলছে মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ও আফ্রিকার বুরুন্ডিতে।  করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর আছে বেলারুশে তবুও লিগ বন্ধের খবর নেই।  তবে তাজিকিস্তানের ফুটবল বেলারুশ লিগের মতো অতটা সাড়া ফেলতে পারেনি।  যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবল ভক্তরা এ লিগ নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়েছে। ম্যাচে তাজিকিস্তান প্রেসিডেন্ট রাহমনের ছেলে রুস্তম ইমামোলির ক্লাব ইস্তিকলোল শিরোপা জেতায় বেশ উৎসবের আমেজ পড়ে যায় স্টেডিয়ামের বাইরে।  ফুটবলাররা শিরোপা ট্রফি ও মেডেল নেওয়ার সময় কোলাকুলি-হাত মেলানো সবই করেছেন। 

ভয় নিয়েই খেলছেন নিকারাগুয়ার ফুটবলাররা

করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতেও নিকারাগুয়া তাদের লিগ বন্ধ করেনি। তবে ভয়ে এই দেশের ফুটবল খেলাই নাকি বদলে গেছে। ফুটবলাররা ভয় নিয়ে খেলছেন।  ম্যাচে ফাউল কম হচ্ছে এমনকি একে অপরের গায়ে ধাক্কাও দিচ্ছেন না নিকারাগুয়ার ফুটবলাররা। দেশটির একটি ক্লাব দেপোর্তিভো লা সাবানাস-এর গোলরক্ষক কার্লোস মস্কুয়েরা বলেন, ‘আমরা একে অপরকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছি।  ফুটবল বদলে গেছে, এখন আর ৫০-৫০ পরিস্থিতিতে বলের লড়াইয়ে জন্য ঝাঁপাই না।  বিশ্বে যা হচ্ছে সেই ভয়টা সব সময় থাকছে। আর এতে করে ম্যাচে মন দেওয়াটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’