সরকারি ছুটির মধ্যে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য করায় পোশাকশিল্প মালিকদের তীব্র সমালোচনা করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, শিল্পমালিকরা অমানবিকভাবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে চাপের মুখে কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য করেছে। মালিকপক্ষের জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী এ আচরণে অসংখ্য শ্রমিক এবং গোটা দেশেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দিল। আগামী দুই সপ্তাহ সময়কে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসময় সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যখন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, তখন কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মস্থলমুখী করে, তাদের এবং কার্যত পুরো দেশকে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়াটা চরম স্বার্থপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক ছাড়া আর কী হতে পারে! এর দায় কারখানা মালিক, মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, কোনো অবস্থাতেই এড়াতে পারে না।’ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘করোনা-উদ্ভূত ঝুঁকিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম এই খাতের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা অব্যাহত রাখার জন্য নামমাত্র সার্ভিস চার্জে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করলেন, তার প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতের। তারপরও এ খাতের নেতারা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যাপক বৃদ্ধি করে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী অবস্থান নিলেন।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আজও (গতকাল) বেশ কিছু কারখানা খোলা রাখার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর কতটা অমানবিক হবেন তারা? আমরা ধারণা করেছিলাম রানা প্লাজার মতো অমানবিকতার মুখোমুখি আর কখনো এদেশকে হতে হবে না। কিন্তু তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা প্রমাণ করে দিলেন যে, তাদের নিজেদের স্বার্থের সামনে শুধু শ্রমিকই নয়, পুরো দেশের কল্যাণ ও নিরাপত্তার কোনো অর্থ বহন করে না। তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই পোশাকশিল্প মালিক হওয়ার পরও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন। অবস্থাদৃষ্টে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সরকারের ভেতরে নানা স্বার্থান্বেষী মহল কি এই জাতীয় দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে প্রকারান্তরে সরকারকেই জিম্মি করে অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ে সক্রিয় রয়েছে?’