মন্ত্রিসভা বৈঠক

কেউ আক্রান্ত হলেই এলাকা লকডাউন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট এলাকাকে লকডাউন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভা বৈঠকে। একইসঙ্গে কারাগারে আটক বন্দিদের ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য যারা অপেক্ষাকৃত ছোটখাটো অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে আটক আছেন তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য নীতিমালা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই বৈঠক হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকা লকডাউন করা হতো। এখন মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে না। আক্রান্ত হলেই সেই এলাকা লকডাউন করা হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার অলোকেই সন্ধ্যা ৭টার পর ওষুধ ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

ছোটখাটো অপরাধে যারা অনেক দিন ধরে জেল খাটছেন তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে এ নির্দেশনা দেন। 

ছোটখাটো অপরাধের মধ্যে ছিঁচকে চুরি, টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণার মতো অপরাধ রয়েছে। এসব অপরাধে যারা অনেক দিন ধরে আটক রয়েছেন তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য নীতিমালা করা হবে। কিন্তু হত্যা, ধর্ষণ ও অ্যাসিড মামলার আসামিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মাসে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা কারা অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া যাবে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আইনি ব্যাখ্যার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়া গেলে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বন্দি আসামিদের মুক্তি দিতে একটি প্রক্রিয়া ঠিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) যেসব কারখানা মাস্ক ও পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরি করে এমন কারখানাগুলো খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সামাজিক দূরত্ব বা কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রিসভা বলেছে তা না হলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বারবার অনুরোধ জানিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি আগের থেকে বেড়েছে। সুতরাং জনগণের পরিপূর্ণ সহায়তা ছাড়া এটা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। সেজন্য সামাজিক দূরত্ব বা কোয়ারেন্টাইনের কথা বলা হচ্ছে। আপনারা নিজ দায়িত্বে এটা বাস্তবায়ন করবেন। অন্যথায় কোনোভাবেই কোনো ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আরেকটু স্ট্রিক্ট ভিউতে সোশ্যাল আইসোলেশন বাস্তবায়ন করার জন্য। সেই সঙ্গে ব্যাপক প্রচারণাও চলবে।  যাতে মানুষ আরও বেশি সতর্ক হতে পারে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মুসলমানদের বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে মসজিদের আঙিনার বাইরে থেকে কেউ এসে নামাজ পড়বেন না। মক্কা-মদিনায়ও দেখবেন যারা মসজিদের ভেতরের কর্মী তাদের নিয়ে তারা জামাত করছেন। মসজিদের আঙিনায় ইমাম আছেন, মুয়াজ্জিন আছেন আশপাশের এক-দুজন আছেন তারা হয়তো আসতে পারেন। যদি আমরা গুরুত্ব না দিই তবে কিন্তু এটা কন্ট্রোল করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে লাইলাতুল বরাতের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনও বলে দিয়েছে। মন্ত্রিসভায়ও এটা আলোচনা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ রূপে নফল ও একাকী করার ইবাদত। এটা কোনো জামাত বা দলবদ্ধ ইবাদত নয়। এটা আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে আমরা সবাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব, যাতে এই করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।