নরসিংদীর পলাশের ডাঙ্গার ইসলামপুর গ্রামে মসজিদের এক ইমাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে তাকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার এক পোশাক কারখানার মসজিদে ইমামতি করতেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা লক ডাউন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও নরসিংদী করোনা প্রতিরোধ জরুরি সেলের প্রধান ইমরুল কায়েস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নরসিংদী করোনা প্রতিরোধ জরুরি সেল সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জে চাকরি করেন। করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় তিনি নিজেই ৫ এপ্রিল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসেন।
সোমবার রাতে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটনের নেতৃত্বে চিকিৎসক ও নরসিংদীর করোনা প্রতিরোধ জরুরি সেলের লোকজন ও পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তার শারীরিক পরিস্থিতি ভালো।
পরে প্রশাসন ডাঙ্গার ইসলামপুর গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে প্রশাসন ও পুলিশ খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছে।
নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, করোনা শনাক্ত খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তার পরিবারের ৯ জন সদস্য রয়েছে। রাতেই তাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। আর সকালে তাকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। আর পরিবারের বাকি সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইসিডিআর) পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্ট আসার পর বলা যাবে তারাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে কিনা।
তিনি আর ্ও বলেন, নরসিংদী এখন পর্যন্ত ২০৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। তারা সবাই সুস্থ রয়েছে। আর যাদের মধ্যে জ¦র ঠান্ডা রয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা উপজেলাগুলোর মধ্যে নরসিংদী সদরে ৭ জন, পলাশে ১৬ জন, শিবপুরে ৭ জন, মনোহরদীতে ৭ জন, বেলাবতে ৭ জন ও রায়পুরা উপজেলায় ৭ জন। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত রেজাল্টে কারো করোনা পজিটিভ আসেনি।