করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য দেশের মতো দেশের শোবিজ কর্মীরাও কর্মহীন হয়ে বাসায় রয়েছেন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ বিন মোস্তফা
সর্বশেষ শ্যুটিং...
সর্বশেষ শ্যুটিং করেছি বরিশালে। নিয়াজ মাহবুবের দুটি খ- নাটকের কাজ করেছি আমি আর অর্ষা। নাটকের নাম এখন বলতে পারব না। সেখান থেকে ঢাকা ফিরেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি।
স্ত্রী ও ছেলের জন্য উৎকণ্ঠা...
পেশাগত কারণে আমার স্ত্রী আমেরিকা থাকে। একমাত্র ছেলেটিও সেখানে। ওরা থাকে লসঅ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে করোনাভাইরাস নিউ ইয়র্কের মতো এত বেশি না ছড়ালেও ঝুঁকি রয়েছে। ওরা অনেক আগে থেকেই ঘরবন্দি। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয় না। প্রথম দিকে তাদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা হতো। এখন আমাদের দেশেও একই অবস্থা। এখন দেশের মানুষের কথা ভাবছি, তাই মনকে স্থির রাখতে পারছি না।
অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য ফা-...
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই দেখছি তারকাদের নিয়ে খুব সমালোচনা করছেন। কেন তারা সাহায্য করে ফেইসবুকে প্রকাশ করছে, কেন তারা এই দুঃসময়ে নেটফ্লিক্সে সময় কাটাচ্ছে- এমন অনেক অবান্তর কথাবার্তা। কিন্তু তারা কেউই ভাবছে না যে আমরা শিল্পী। আমি হয়তো নেটফ্লিক্স দেখছি না, কিন্তু যারা দেখছে তারা তো নিজের কাজটাই করছে। একজন শিল্পীর কাজই তো ভালো কাজ দেখে নিজেকে আরও উন্নত করা। আর ঘরে থাকলেও শিল্পী হিসেবে তো আমাদের দায়িত্ব আছে। এজন্য আমাদের টিভি নাটকের শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ড ও প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন মিলে একটা ফান্ড গঠনের জন্য গত ১০ দিন ধরে কাজ করছি। নাটকের অনেক অসচ্ছল শিল্পী আছে যারা দিন আনে দিন খায়। এছাড়া ক্যামেরার পেছনের কলাকুশলীদেরও একই অবস্থা। তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এই ফান্ড গঠন করছি। শিগগিরই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া অভিনয়শিল্পী সংঘ বয়স্ক ও অসচ্ছল শিল্পীদের তিন বছর ধরে মাসিক বাজারের সুবিধা দিচ্ছে। এর পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ কাজে আমাদের সহায়তা করছে স্বপ্ন ও মিনা বাজার।
চিত্রনাট্যের কাজ...
গত দেড় বছরে আমি তিনটি সিনেমার গল্প লিখেছি। কিন্তু সময়ের অভাবে তার চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি করতে পারছিলাম না। এখন বাসায় বসে সেই কাজগুলো করছি। এর বাইরে আর কোনো সৃজনশীল কাজে মন বসাতে পারছি না। তাই প্রতিদিন অন্তত একবার ভিডিও বার্তা, ফেইসবুক লাইভ বা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মানুষকে যতটুকু পারি সচেতন করার চেষ্টা করছি।