বেপরোয়া হাইওয়ে পুলিশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকু- অংশে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মহাসড়কে চলাচলকারী নিরীহ মানুষকে মারধর, গাড়ি আটকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও অসহায়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ইত্যাদি অভিযোগ হরহামেশা পাওয়া যাচ্ছে।

গত সোমবার রাত ১টার সময় বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আওয়াল ও এস.আই সাইফুল জয়নাল আবেদিন (৫০) নামের এক নিরীহ রিকশাচালক থেকে ১০ হাজার টাকা নেন এবং পরে জোরপূর্বক ৭শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন। ঐ স্ট্যাম্পও নিরীহ রিকশাচালকের টাকায় কেনা।

রিকশাচালক জয়নাল আবেদিন জানান গত রবিবার দুপুরের দিকে ভাটিয়ারী মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল হাসপাতালে এক রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় হাইওয়ে পুলিশের এসআই সাইফুল রোগী নামিয়ে গাড়িটি হাইওয়ে থানায় নিয়ে যান এবং এ সময় অকথ্য ভাষায় চালককে গালি দিতে থাকেন। সোমবার সোসর্কে দিয়ে এসআই সাইফুল রিকশাচালককে ডেকে আনেন এবং ১০ হাজার টাকা দিলে গাড়ি ছেড়ে দেবেন বলেন। সেই মোতাবেক রাতে টাকা নিয়ে থানায় আসেন রিকশাচালক জয়নাল। প্রথমে টাকা নেন। এসব ঘটনা ওসি আব্দুল আউয়ালের সামনেই ঘটে।

এভাবে গত ১৭ মার্চ মোহাম্মদ শামীম নামের অপর এক রিকশাচালকের গাড়ি গ্রাম থেকে ধরেন এসআই সাইফুল। এরপর সোর্সের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে নিরীহ রিকশাচালক অনেকের কাছে গিয়ে টাকা জোগাড় করতে না পেরে তিনদিন পর অনাহারে পরিবারকে ভরণ-পোষণ করতে না পারায় আত্মহত্যা করেন।

গত ২২ মার্চ হাইওয়ে পুলিশের এক এসআই মহাসড়কের নড়ালিয়া পিএইচপি গ্লাস ফ্যাক্টরির ইউটার্ন এলাকায় হেলাল নামের এক দলিল লেখককে বিনা কারণে মারধর করলে স্থানীয়দের তোপের মুখে দ্রুত পালিয়ে যান। টাকা না দিলে মারধর করার অসংখ্য নজির আছে বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল আউয়ালকে ফোন করলে উনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অভিযুক্ত এসআই সাইফুল মারধর, সব বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আপনি ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’ হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার কুমিল্লা রিজিয়ন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজনকে আমার কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেন।’