ফরিদপুরে করোনাভাইরাসের প্রেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য মাইকিং করে কম মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে জেলা যুবলীগ। মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের জন্য কর্মীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকায় এসব পণ্য পাইকারি দরে কিনে বিক্রি করা হচ্ছে।
শহরের ২৭টি ওয়ার্ডে তিনটি ট্রাকযোগে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যুবলীগের কর্মীরা বাজার মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমমূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করছে মানুষের কাছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩টি করে ট্রাক ঘরের সামনে গিয়ে মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছে এসব পণ্য। যদিও মাস্ক পরিহিত ছাড়া কারও কাছে তারা এসব পণ্য বিক্রি করছে না। আর একজনের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণেই বিক্রি করা হচ্ছে।
এর মধ্যে প্রতি কেজি চিকন চাল বিক্রি করা হচ্ছে ৩৮ টাকা দরে। ডাল প্রতি কেজি বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯৮ টাকা। আলু ১৯ টাকা। পেঁয়াজ ৩২ টাকা। লবণ ১৫ টাকা। ডিম প্রতি হালি ২৪ টাকা। আটা ৩০ টাকা কেজি দরে।
শহরের মাস্টার কলোনির হায়দার আলী নামে এক ক্রেতা জানালেন, তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার মোড়ে দেখেন একটি ট্রাকে মাইকিং করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির কথা বলা হচ্ছে। ওই ট্রাকে যুবলীগের ব্যানার লাগানো ছিল।
তিনি বলেন, বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দামে এখানে নিত্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বাজার থেকে এসব পণ্য হেঁটে আনতে অনেক কষ্ট হতো। আর রিকশা পাওয়া যেত কি-না সন্দেহ।
শহরের বিভিন্ন মহল্লায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুলনামূলক কম মূল্যে এসব পণ্য কিনতে পেরে সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বিস্ত পাচ্ছে। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত যারা মানুষের দ্বারে হাত পাততে অভ্যস্ত নন। আবার উচ্চমূল্যের কারণেও অনেকে চিহ্নিত। তাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। নিত্যপণ্য বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, আটার জন্য তাদের বাজার থেকে পণ্য কিনে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যুবলীগের এই উদ্যোগকে অসাধারণ মহতী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ভ্রাম্যমাণ বাজারের কাজে নিয়োজিত যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম নাছিম জানান, আমরা চেষ্টা করছি যারা সরকারি ত্রাণ বা অন্যদের খাদ্য সহায়তা হাত পেতে নিতে পারে না তাদের দোরগোড়ায় গিয়ে স্বল্প মূল্যে প্রয়োজনীয় বাজার পৌঁছে দিতে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এইচএম ফোয়াদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে যুবলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের কাছ থেকে চাঁদা দিয়ে একটি তহবিল করেছিল। এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে যেহেতু সেই অনুষ্ঠান হচ্ছে না, তাই আমরা সেই টাকা দিয়েই এভাবে মানুষের দোরগোড়ায় এসব পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এটি কোনো ব্যবসাকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা নয়। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের সুবিধার্থেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।