ব্যাংকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশনা

করোনাভাইরাস সংক্রামণের কারণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ শাখা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অল্প কিছু শাখা খোলা রাখা হয়েছে। খোলা থাকা শাখাগুলোতে গ্রাহকদের চাপ বেশি দেখা গেছে। এতে করে করোনাভাইরাস সংক্রামণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল এক সার্কুলারের মাধ্যমে এমন নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকগুলোর প্রতি চারটি শাখার একটি শাখা খোলা রেখে সীমিত পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে খোলা রাখা শাখাগুলোতে প্রতি কার্যদিবসে মাত্র তিন ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অনেক গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বেশিরভাগ ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকায় বিভিনড়ব ধরনের ভাতা ও অন্যান্য গ্রাহকের নগদ অর্থ চাহিদার কারণে খোলা থাকা শাখাগুলোতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। চার শাখার গ্রাহক এক শাখায় আসায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। এতে করে করোনাভাইরাস সংক্রামণের ঝুঁকি বাড়ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঝুঁকি এড়াতে গতকাল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যতীত দর্শনার্থী ও সাক্ষাৎপ্রার্থীদের আগমন নিরুৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংকে উপস্থিত ‘সকলের মধ্যে যাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে’।

এর আগে গত ২২ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে ব্যাংকের করণীয় প্রসঙ্গে এক সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে ব্যাংকগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অধিকাংশ শাখা বন্ধ করে সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকার প্রেক্ষিতে গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শাখায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাচ্ছে না।

বিভিনড়ব ব্যাংকে আগত বিভিনড়ব ভাতা গ্রহণকারীসহ গ্রাহক, দর্শনার্থী ও কর্মকতা- কর্মচারীরা ব্যাংকে আসার পর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখছেন না বলে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের পর্যালোচনায় জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আবারও নির্দেশনা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে।