জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের গতকাল বুধবার মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব শহীদুজ্জামান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শহীদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আবেদন পেয়েছি। সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারাবিধি অনুসরণ করে লালসালু কাপড়ে ঢেকে আবদুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা পৌঁছে দেওয়া হয় কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ডিত আসামি আবদুল মাজেদকে পড়ে শোনান মৃত্যু পরোয়ানা। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না? পরে আবদুল মাজেদ নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।
দণ্ডিত আসামি বা তার পরিবারের সদস্যরা সংবিধান অনুসারে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ পান। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে বা আবেদন খারিজ হলে কারা কর্তৃপক্ষ কারাবিধি অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবদুল মাজেদ গতকাল সন্ধ্যায় জেলারের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে দরখাস্ত দেন। নিয়ম অনুসারে জেলার সেই দরখাস্তটি পাঠিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত চেয়ে আবেদনটি পাঠাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। যে অপরাধের জন্য আসামির ফাঁসি হয়েছে, সে ব্যাপারে আসামি কোনো ধরনের অনুকম্পা পেতে পারেন কি না, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়ে আবেদনটি ফেরত পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নোটসহ ফাইলটি পাঠাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সেই ফাইল যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবদেন নামঞ্জুর করলে কারা কর্তৃপক্ষ কারাবিধি অনুসারে আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা করবে।
২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর খুনি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। রায় কার্যকরের আগের দিন ফারুক রহমান প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি তার আবেদন নাকচ করে দেন।