গাইবান্ধা লকডাউন

করোনাভাইরাসে ৮ জন শনাক্তের পর মরণব্যাধি এই রোগের বিস্তাররোধে গাইবান্ধা জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গাইবান্ধা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গাইবান্ধাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যা আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর হবে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাইবান্ধা থেকে কেউ অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবেন না এবং জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রামক ঝুঁকি মোকাবিলায় গাইবান্ধা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি সভা গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত ও গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফের সুপারিশক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনাক্রমে গাইবান্ধা জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

ফলে এ জেলা হতে কেউ অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবেন না এবং জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সকল ধরনের গণপরিবহন, জনসমাগম পূর্বের মতো বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিসেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতা বহির্ভূত থাকবে। জনসাধারণের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল আদেশ বলবৎ থাকবে।

গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয় গত ২২ মার্চ। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুইজন মা ও ছেলে শনাক্ত হন এই ভাইরাসে। পরে তাদের দুজনের থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে আরও তিনজনের শরীরে। এই তিনজনের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করা হয় ২৭ মার্চ ও আরেকজনকে শনাক্ত করা হয় ৪ এপ্রিল। সর্বশেষ ৯ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত আরও তিনজনের তথ্য জানায় ঢাকায় সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সবমিলে গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।

গাইবান্ধায় তিন উপজেলার ৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকেই গাইবান্ধাকে লকডাউনের দাবি জানিয়ে আসছিল গাইবান্ধাবাসী। এরপর আজ শুক্রবার গাইবান্ধাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা দেয়া হলো। 

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, আমাদের হিসেবে এখনো ৫ জন আছে। তবে ঢাকার রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বৃহস্পতিবার আরও নতুন যে তিনজন আক্রান্তের কথা বলছে, সেই তিনজন হতে পারেন অন্য কোনো জেলায় বসবাসরত গাইবান্ধার বাসিন্দা। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

ডা. এ বি এম আবু হানিফ আরও বলেন, আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে চারজনকে গাইবান্ধার সরকারি দুইটি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এবং আরেকজনকে আইইডিসিআরের পরামর্শক্রমে বাড়ীতে আইসোলেশনে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এই ৫ জনের মধ্যে একজনের বিষয়ে খুব শীঘ্রই সুখবর আসছে বলেও জানান সিভিল সার্জন।