তিতাসে যুবকের করোনা শনাক্ত, চিকিৎসকের বাসভবনসহ ৫ গ্রাম লকডাউন

কুমিল্লার তিতাসে ঢাকা ফেরত এক যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় আক্রান্ত যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ৫টি গ্রাম বৃহস্পতিবার লকডাউন করেছে তিতাস উপজেলা প্রশাসন।

করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরফরাজ খান।

এদিকে ওইদিন রাত সাড়ে ১২টায় করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসক সোহেল মিয়ার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর দক্ষিণ বাজার তাকওয়া আবাসিক এলাকার বাসভবনসহ অর্ধশতাধিক ভবন লকডাউন করেছে প্রশাসন। 

তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরফরাজ খান জানান, আক্রান্ত যুবকের বাড়ি তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের বিরামকান্দি গ্রামে।

তিনি ঢাকার একটি চালের আড়তে শ্রমিকের কাজ করতেন।

গত ৫ এপ্রিল বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে ৬ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে ৭ এপ্রিল বুধবার ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

তিনি আরও বলেন, করোনার সংক্রমণ থাকলেও সর্দি, কাশি বা অ্যাজমার কোনো উপসর্গ নেই। তবে শরীরে জ¦র এবং দুর্বলতা থাকায় ওই যুবককে এখন তার নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার ওই বাড়ির আরও পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কাল ঢাকায় পাঠানো হবে।

কড়িকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন ভূইয়া জানান, আমার এলাকার ৩০ বছর বয়সী ওই যুবক ঢাকায় কাজ করতো। করোনা সংক্রমণ থাকায় তার বাড়ি বিরামকান্দিসহ আশপাশের মনাইকান্দি, কাবানকান্দি, সাগরফেনা ও গাজীপুর গ্রামকেও লকডাউন করা হয়েছে।

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন, করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা আত্মীয়-স্বজদের আরও চার গ্রামকে লকডাউন করা হয়েছে।

এদিকে তিতাসের করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া প্যারামেডিক চিকিৎসক মো. সোহেল মিয়ার বাড়ী দাউদকান্দির গৌরীপুর দক্ষিণ বাজার তাকওয়া আবাসিক এলাকা লকডাউন করেছে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দিবগত রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনসহ পুরো এলাকা লকডাউন করেন।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্ত শাহীনুল আলম সুমন বলেন, শুক্রবার সকালে প্যারামেডিক চিকিৎসক সোহেলের পরিবারের সকল সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শনিবার পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এছাড়া তাকওয়া আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের সকল বাড়িতে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।