৭০০ জেলে পরিবারের মানবেতর জীবন

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় করোনার প্রভাবে প্রায় ৭০০ জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নদীতে মাছ ধরতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তা আর হতাশার মধ্যে তাদের দিন কাটছে। আর এসব জেলে পরিবার এ পর্যন্ত কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পায়নি। ফলে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে, অনাহারে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হিতামপুর বোয়ালিয়া, নাছিরপুর, কাশিমনগর, নোয়াকাটী, মাহমুদকাটী, বাঁকা, রাড়ন্ডলী, সাহাপাড়া গ্রামে প্রায় ৭০০ জেলে পরিবারের বাস। এসব গ্রামে বসবাসরত পরিবাগুলোর আয়ের প্রধান উৎস সমুদ্রে মাছ ধরা। বছরের প্রায় চার-পাঁচ মাস বঙ্গোপসাগর মোহনার দুবলার চরে মহাজনের অধীনে মাছ ধরতে যান। দুবলার চরের আলোর কোল, নারকেলবাড়ী এলাকায় মাছ শিকার করেন তারা। এসব জেলে নৌকা নিয়ে অক্টোবরের শেষে সমুদ্রে পাড়ি জমান। আর মার্চে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। একশ্রেণির মহাজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ১৫-২০ হাজার টাকা সুদে দাদন নিয়ে পথে নামেন জেলেরা। এভাবে সাত-আট জেলের নৌকাপ্রতি খরচ হয় ১০-১২ লাখ টাকা। বছরের বাকি সময় স্থানীয় নদ-নদীতে মাছ ধরে ও ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে গোটা বিশ্ব থমকে গেছে।

গত বুধবার বোয়ালিয়ার মালোপাড়ায় (জেলেপাড়া) সরেজমিন দেখা যায়, জেলেদের নৌকাগুলো নদীর চরে পড়ে আছে। কাজ না থাকায় তারা হতাশায় সময় কাটাচ্ছেন।

হিতামপুর বোয়ালিয়া মালোপাড়ার সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘করোনার কারণে নদীতে মাছ ধরতে পারছি না। আয় রোজগার বলে কিছু নেই। ধারদেনা করে চলছি। তার ওপর মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করার চাপ আছে। খুব দুচিন্তায় পড়েছি।’

পরিমল বিশ্বাস বলেন, ‘সাগর থেকে যা আয় করেছিলাম তার বেশির ভাগ মহাজনকে দিয়েছি। এখন হাতে আর টাকা নেই। সংসারে খাবার নেই, তার ওপর কাজ না থাকায় বেকার সময় পার করছি। মেম্বারের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো তারা কিছু ত্রাণ পেয়েছে। বাকি কেউ কিছু পায়নি।’

রাড়ন্ডলী মালোপাড়ার সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, আমরা মাছ ধরা ছাড়া অন্য কাজ পারি না। তা ছাড়া সরকার ঘর থেকে আমাদের বের হতে দিচ্ছে না। তাহলে আমরা কী করে খাব।