করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষকরাও বলছেন, শুধু সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মানলে করোনা সংμমণ অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পাশাপাশি পরস্পরের দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়ানো, গণপরিবহন ব্যবহার না করার মতো বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। অথচ কোনোভাবেই মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিরামপুর, নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাটের উপজেলা প্রশাসন বলছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষকে ঘরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
গতকাল শনিবার সরেজমিন ওই তিনটি উপজেলার বিভিনড়ব এলাকায় দেখা গেছে, বাজার এলাকাগুলোতে লোকজনের ব্যাপক আনাগোনা, দোকানপাটে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে কেনাকাটা। ভ্যান ও অটোরিকশায় গাদাগাদি করে লোকজন যাতায়াত করছে। বিরামপুরের পুরাতন বাজার, নবাবগঞ্জের চড়ারহাট, ডাকবাংলো মোড়, ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জসহ বিভিনড়ব স্থানে লোকজন বসে আড্ডা দিচ্ছেন।
বিরামপুর পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, ক্রেতারা কোনো কথা মানতে চান না। বারবার বলার পরও কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। কে কার আগে পণ্য কিনবেন সেই প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।
বিরামপুর-ভাদুরিয়া পথে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন সাইফুল ইসলাম। বাড়িতে থাকার জন্য ত্রাণসামগ্রী পাওয়ার পরও কেন ইজিবাইক চালাচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘কমবেশি তো সবাই চালাচ্ছে। ত্রাণ যা দিছে তা দিয়ে তো ৩-৪ দিন চলবি। পরে যদি আর ত্রাণ না পাই। তাই সুযোগ মতো চালাচ্ছি। যা কামাই হবি পরে সেটা দিয়ে চলমো।’
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান জানান, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোক হলো দিন এনে দিন খাওয়া ব্যক্তিরা। উপজেলার প্রায় ১০ হাজার কর্মহীন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দুপুর ১টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ, নিয়ম মেনে সাপ্তাহিক হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল সীমিত করাসহ সব কার্যμম নেওয়া হয়। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অব্যাহত আছে নিয়মভঙ্গকারীদের জরিমানা। এত কিছুর পরও অকারণে মানুষ বাইরে ঘোরাফেরা করছে। গ্রামের লোকজন অকারণেই শহরে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নবাবগঞ্জের ইউএনও নাজমুন নাহার জানান, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কর্মরত নবাবগঞ্জের অনেক শ্রমিক এখানে এসে আত্মগোপন করছেন। তারা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছেন না।