সুনামগঞ্জে প্রসূতি করোনায় আক্রান্ত, ডাক্তার-নার্স কোয়ারেন্টাইনে

সুনামগঞ্জে আরেকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সদর উপজেলায় এক প্রসূতির করোনা শনাক্ত হ্ওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক ও নার্সসহ ৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেরিগাঁও গ্রামের ওই নারী (২৫) গত বুধবার প্রসব ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে আসেন। একজন গাইনি চিকিৎসক দেখে জানান তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার লাগবে। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা রক্ত জোগাড় করতে পারছিলেন না। পরে তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন ওই নারী। পরদিন শুক্রবার তার মধ্যে জ্বর, কাশিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়।

পরে রবিবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আজ জানা গেছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ওই নারীর সংস্পর্শে যাওয়া এক ডাক্তার ও তিনজন নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া তাদের নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসা সুনামগঞ্জের অন্যান্য ডাক্তার ও নার্সদেরও পর্যায়ক্রমে নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে।

বেরীগাও গ্রামের স্থানীয়রা জানায়, ওই নারীর স্বামী কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি আসেন। তার মধ্যেই স্ত্রী সংক্রমিত হয়েছেন। ওই সময় তার স্বামীও সঙ্গে ছিলেন। এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের গাইনি ও মেডিসিন বিভাগের সংশিøষ্টরা ওই নারী দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক এবং একই সঙ্গে আমরা যারা এই চিকিৎসক ও নার্সদের সান্নিধ্যে এসেছি তাদেরও নমনুা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হবে। ওই নারীর পরিবার তথ্য গোপন করায় দুটি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ অনেক মানুষ এখন ঝুঁকিতে আছেন।

এ নিয়ে সুনামগঞ্জে দুজন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। গতকাল প্রথম সুনামগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।