করোনার প্রাদুর্ভাবে যখন সরকার চিকিৎসাকর্মীদের বাড়তি ভাতা দিয়ে হাসপাতালের নিয়মিত কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টা করছে তখন কিশোরগঞ্জে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৩ জন অস্থায়ী কর্মচারীর বেতনের ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মীদের ভাষ্য, চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে তাদের মাসিক বেতন ১৬ হাজার ১৩০ টাকা থেকে ৫ হাজার ১৩০ টাকা করে চার মাসে মোট ২০ হাজার ৫২০ টাকা রেখে দিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু বেতন শিটে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা করেই দেওয়া হয়েছে বলে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিতে দেখা দিয়েছে প্রয়োজনীয় কর্মচারী সংকট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে স্থাপিত ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি এক বছর আগে চালু হয়েছে। শুরু থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে কাজের জন্য আউটসোর্সিং ও মাস্টার রোল (প্রতি দিনের কাজ অনুযায়ী বেতন) মিলে ১০৩ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের মাসিক বেতন ধরা হয় জনপ্রতি ১৬ হাজার ১৩০ টাকা। শুরু থেকেই তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন এসব কর্মচারী। সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে দেবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব কর্মচারীকে জানায়। ওই দিন সকালে কর্মচারীরা বেতন তুলতে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. আকরামুল হকের কাছে যান। প্রতি মাসের ১৬ হাজার ১৩০ টাকা হিসেবে মোট চার মাসে জনপ্রতি ৬৪ হাজার ৫২০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও হিসাবরক্ষক আকরামুল তাদের প্রত্যেককে ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে বেতন শিটে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। প্রতিজনের চার মাসের বেতনের ২০ হাজার ৫২০ টাকা টাকা করে ১০৩ জনের কাছ থেকে মোট ২১ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টাকা কেটে রাখা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতন থেকেও জনপ্রতি ১২ হাজার ২৬০ টাকা করে মোট ১১ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ টাকা দেয়নি কর্র্তৃপক্ষ। কেউ কম নিতে রাজি না হলে হিসাবরক্ষক বলেন, এ টাকায় চাকরি করলে করবে, না হলে চাকরি ছেড়ে চলে যাও। পরে বাধ্য হয়ে কম টাকা নিয়েই চলে আসেন কর্মচারীরা। বেতন কম পাওয়াতে অনেকেই নিয়মিত কাজ করতে আসছেন না। ফলে করোনার মতো দুর্যোগেও কর্মচারী সংকটে রয়েছে হাসপাতালটি।
চাকরিচ্যুতির ভয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে ভুক্তভোগী এক কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চার মাস আগেও আমাদের দুই মাসের বেতন দেয়। সেখান থেকেও তারা জনপ্রতি ১২ হাজার ২৬০ টাকা করে মোট ১১ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ টাকা মেরে দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে হিসাবরক্ষক মো. আকরামুল হকই এ কাজ করেছেন। আমরা কার কাছে বিচার চাইব? বিচার চাইলে ফাঁকে গরিবের চাকরিটাই যাবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষক মো. আকরামুল হক কথা বলতে রাজি হননি। তবে সহকারী হিসাবরক্ষক শামীমা আক্তার জাহান বলেন, ‘আমরা তাদের প্রত্যেককে চার মাসের বেতন থেকে ৫ হাজার ১৩০ টাকা করে কম দিয়েছি। কারণ বেতন থেকে ভ্যাটসহ আরও অন্যান্য খরচ বাদ দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও আমাদের আরও কিছু কর্মচারী রয়েছে, তাদেরও কাজ করিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে খরচ করতে হয়েছে।’
অন্যদিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘হাসপাতালের আউটসোর্সিং ও ডেইলি বেসিসের বেতন-ভাতা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে জানি। কিন্তু এ বিষয়টি আমি দেখি না। তাই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না।’