সাভারে বকেয়া বেতন ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে সাভারের বেশ কয়েকটি তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানাগুলোর সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

বুধবার সকালে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় অবস্থিত বেঙ্গল ফাইন সিরামিকস কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের কথা ছিলো। কিন্তু কতৃপক্ষ শ্রমিকদের তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন। এ সময় ওই কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রায় দুই ঘন্টা বিক্ষোভের পর পুলিশ শ্রমিকদের সড়িয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। 

এছাড়া সাভারের রাজফুলবাড়িয়া শোভাপুর এলাকার এস কে এ্যাপারলেস লিমিটেড, উলাইলের বেলকুচি নিটি অ্যান্ড ডাইং ও তেঁতুলঝোড়া এলাকার বকুল অ্যাপারলেস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও বকেয়া বেতদের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।  
অন্যদিকে, আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার তানজিনা অ্যাপারেলস লিমিটেড, আনজির সুয়েটার লিমিটেড, কুটুরিয়ার জেট এ এপারেলস, খেঁজুরবাগান এলাকার রেডিয়েন্স ফ্যাশন লিমিটেড, থ্রি এ ফ্যাশন লিমিটেড, ক্রিস্টাল কম্পোজিট লিমিটেড, তৈয়বপুরের তাজির এপারেলস লিমিটেড ও শ্রীপুরের এজিজ টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এরমধ্যে কিছু কারখানার শ্রমিকরা বেতনের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করে এবং কিছু কারখানায় শ্রমিকরা আন্দেলন চলমান রেখেছে। এছাড়া জিরাবো এলাকার জে এল সুয়েটার লিমিটেড কারখানাটি খোলা রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের ঘরে খবার সংকট। বেতন না পেলে তারা বাজার করবে কী করে আর খাবেই বা কী করে। সরকারে কাছে অনুরোধ করছি অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা হোক।

এদিকে সকালে ১৮৯ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে জামগড়া এলাকার ‘ফ্যাশন ফোরাম’ কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। এসময় তারা চাকুরীতে পুনর্বহাল ও বিনা কারনে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, করোনা পরিস্থিতির জন্য যখন কারখানা বন্ধের ঘোষনা দেওয়া হয় তখনই বিনা কারনে আমাদের ১৮৯ জন শ্রমিককে ছাটাই করে নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এই সময় ছাটাই করলে আমরা কি খাবো কোথায় যাবো। ইচ্ছা হলেই আমাদের কাজে নেবে আবার ইচ্ছা হলেই আমাদের ছাটাই করবে এটা কেমন আইন।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অরেবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু বলেন, করোনাকালীন বন্ধের সুযোগ নিয়ে কারখানা কতৃপক্ষ ১৮৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছেন যা অমানবিক। আমি তাদের সকলকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাই।