বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ব্রিটেনের সব মসজিদ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন মসজিদে যেতে অভ্যস্ত ঘরবন্দি মুসলিমদের দিন কাটছে মানসিক পীড়ায়। এমন সংকটময় মুহূর্তে ব্রিটেনের ১৪টি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে ইসলামবিষয়ক আলোচনা সম্প্রচার শুরু করেছে বিবিসি রেডিও। গত ৩ এপ্রিল থেকে এর সম্প্রচার শুরু হয়।
প্রতি শুক্রবার সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে বিভিনড়ব ইমামের আলোচনা সম্প্রচার করা হবে। এ সময় বেশি সম্প্রচার করা হবে কোরআনের আয়াত ও হাদিসের বাণী। বিবিসির লোকাল রেডিও সেন্টারের প্রধান বলেন, স্থানীয় রেডিওগুলো ঘরবন্দি থাকা বিভিনড়ব সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশাবাদী ইসলামবিষয়ক সাপ্তাহিক আলোচনা বিচ্ছিনড়ব হয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক একতাবোধ তৈরিতে সাহায্য করবে।
এমন সুন্দর উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রকাশ করলেও অনেকে এর সমালোচনা করে। কিন্তু বিবিসি রেডিওর সাংবাদিক হ্যারি ফারলে সমালোচকদের জবাবে বলেন, অনেকে এ কার্যক্রমের সমালোচনা করলেও তাদের এ কথাও মনে রাখা উচিত যে, প্রতি রবিবার বিবিসির ৩৯টি স্টেশনে খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস বা খ্রিস্টান পরিষেবাও সম্প্রচার হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার গত ২৩ মার্চ থেকে সব ধর্মীয় উপাসনালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের (এমসিবি) মতে, এই ঘোষণার আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্রিটেনের ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩৭৫টি মসজিদের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এমসিবির সাধারণ সম্পাদক হারুন খান বলেন, সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব মসজিদ ও নামাজ আদায়ের স্থানগুলো নিজেদের কার্যক্রম স্থগিত করে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে।
ব্রিটেনের অনেক মসজিদে হাজারেরও বেশি মুসল্লি একই সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। ইস্ট লন্ডন মসজিদে একসঙ্গে প্রায় সাত হাজারের বেশি লোক নামাজ আদায় করতে পারে। লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে একসঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি লোক একসঙ্গে নামাজ আদায়ে সক্ষম। এ ছাড়া বার্মিংহাম মসজিদে প্রতি শুক্রবার আড়াই হাজারেরও বেশি লোক নামাজ আদায় করে।
সরাসরি মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ থাকলেও অনেক মসজিদ ভার্চুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করে মসজিদের আলোচনা অনলাইনে সম্প্রচার করছে। ইউরোপের আলেম, ইমাম ও ইসলামিক স্কলাররা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মুসলিমদের আধ্যাত্মিক শূন্যতা পূরণে অবিরাম চেষ্টা করছেন। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র রমজান মাসে মসজিদ বন্ধের প্রভাব প্রবলভাবে মুসলিমদের মধ্যে দেখা দেবে। তাই অনেকে জুমা ও তারাবির নামাজকে অনলাইনের মাধ্যমে সম্প্রচারে সচেষ্ট হচ্ছেন।