বরগুনায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম সবুজ (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন।
বুধবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত। করোনার কারণে কয়েকদিন আগে বাড়ি এসেছেন। একই ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের ফারুক পহলানের ছেলে তিনি।
আহতদের মধ্যে ইউসুফ (৪০), আব্দুল বারেক (৫০), আবুল কালাম (৬৫), আলমগীর (৪০), শাহাবির (২৫), গোলাম রসুল (৪৫), রুবেল (২৫), বেলায়েত হোসেন (২১) ও সরোয়ার পহলানের (৪৫) নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে সরোয়ারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ইউপি নির্বাচন নিয়ে ওই এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্য রাজা্ ও সাবেক ইউপি সদস্য স্বপন খানের মধ্যে বিরোধ চলছে।
বুধবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে ঢলুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ভোগ গ্রামের অতুল হাওলাদারের বাড়ির পুকুর পাড়ে সাবেক ইউপি সদস্য স্বপন খানের লোকজন জুয়ার আসর বসায়। এ সময় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য আবদুস সালাম বিষয়টি বরগুনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
বরগুনা থানার এসআই হেলালের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে রাজা পহলান (৩২), বাসুদেব (৩৭), হাবিল (২২) ও মামুন মোল্লাকে (২৪) ধরে বরগুনা ইউএনও অফিসে নিয়ে আসেন।
বিকেল চারটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে করোনায় ঘরে থাকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আড্ডা দেবার অভিযোগে তাদেরকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্বপন খানের প্রায় ২০/২৫ জন সমর্থক সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে রায়ভোগ বাজারে এসে বর্তমান ইউপি সদস্য রাজুর সমর্থকদের এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে।
এ সময় রাজুর গ্রুপরে লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললেও টিকতে পারেনি।
একপর্যায়ে রাজুর গ্রুপের লোকজনও সংঘবদ্ধ হয়ে স্বপন খানের গ্রুপের লোকজনের উপর পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপতালে সন্ধ্যার পরে নিয়ে আসে। হাসপতালে নিয়ে আসার পথে সাইফুল ইসলাম সবুজ মারা যায়। আহতদের মধ্যে ৭জনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর সরোয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সকল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।