‘আগে প্রত্যেক দিন কামাইতাম হাজার-১২শ টাহা। এহন কামাই ২শ থাইক্যা ৩শ টাহা। তাই বউ-বেটির খাওন জোগাতে কষ্ট হইতাছে।’ গত সোমবার দুপুরে কথাগুলো বলেন মুন্সীগঞ্জ শহর বাজারের কুলি আমির আলী (৫৫)। তার মতোই মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারের কুলি-মজুরদের এখন প্রতিদিনের আয় কমেছে। হাট-বাজারের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং ক্রেতা সমাগম না থাকায় তাদের তেমন কাজ নেই। মাথায় করে গাড়ি থেকে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বস্তা কিংবা প্যাকেটজাত পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজ কমে গেছে কুলি-মজুরদের।
এদিকে, দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজারের দোকানে এবং ক্রেতাদের পন্যসামগ্রী গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যস্ত দিন এখন আর নেই কুলি-মজুরদের। এতে দিনের বেশির ভাগ সময় তাদের অলস বসে থাকতে হচ্ছে। রোজগার কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জেলা শহরের বড় বাজারের কুলি মাসুদ বলেন, ‘এহন হাতে তেমন কাজ নাই। গাড়ি চলে না।
দোকানে দোকানে মালামাল আহে কম। এতে রোজগার কইম্যা গেছে। সংসার চালাইতে পারতেছি না।’ জেলার সিরাজদিখান বাজারে ৫০ জন কুলি রয়েছেন। ওই বাজারের কুলির সরদার হানিফ সরকার বলেন, করোনার কারণে এখন কাজ নেই।
আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। এরপর স্ত্রী-সন্তানদের খাবার দেবেন কীভাবে, সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। সিরাজদিখান বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, আমাদের সমিতির নিজস্ব কোনো ফান্ড নেই।