পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানিতে। মাবাবা ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যবিত্ত ইহুদি। পাঁচ বছর বয়সে আইনস্টাইন কম্পাসের প্রতি আকৃষ্ট হন। মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ছোট জ্যামিতি বই ‘ইউক্লিডের এলিমেন্টস’ ও ভালো লেগেছিল খুব।
১৮৯৩ সালে তার পরিবার ইতালিতে চলে যায়। আরও পরে আইনস্টাইন সুইজারল্যান্ডের একটি স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৯৬ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯০১ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। আপেক্ষিকতার তত্ব , বিশেষত ভরশক্তি সমতুল্যতার সূত্র আবিষ্কারের জন্য আইনস্টাইন বিখ্যাত। ১৯২১ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর গবেষণা, উদ্ভাবন ও আবিষ্কারে তার অবদান অনেক। সবচেয়ে বিখ্যাত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ব বল বিজ্ঞান ও তড়িৎ চৌম্বকত্বকে তিনি একীভ‚ত করেছিলেন। অসম গতির ক্ষেত্রে আপেক্ষিকতার তত্ব প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন মহাকর্ষ তত্ত¡ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মানির ক্ষমতায় আসার পর আইনস্টাইনকে দেশ ছাড়তে হয়। ১৯৪০ সালে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি জার্মানি ভিন্ন ধরনের অসম্ভব শক্তিশালী বোমা বানাতে পারে মর্মে সতর্কতা করে আমেরিকাকেও একই ধরনের গবেষণা শুরুর তাগিদ দেন। এরপর ম্যানহাটন প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়। আইনস্টাইন অবশ্য পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ছিলেন। পরে বার্ট্রান্ড রাসেলের সঙ্গে মিলে পারমাণবিক বোমার ক্ষতিকর দিক নিয়ে ‘রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার’ রচনা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আইনস্টাইন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন এই পদার্থবিজ্ঞানী ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল মারা যান। ১৯৯৯ সালে টাইম সাময়িকী আইনস্টাইনকে শতাব্দীর সেরা ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দেয়।