সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার কর্মহীন অভাবি দিনমজুরকে সরকারি ব্যবস্থায় ধানকাটা শ্রমিক সংকট নিরসনে হাওরাঞ্চলে পাঠানোর জন্য তারা জোর দাবি জানিয়েছেন। এতে এসব কর্মহীন দিনমজুরের অভাব দূর হবে আর হাওরাঞ্চলবাসীর ধানকাটা শ্রমিক সংকট নিরসন হবে।
এ বিষয়ে কথা হয় শাহজাদপুর উপজেলার কাদাইবাদলা গ্রামের মাটিকাটা দিনমজুর আসলাম আলী(৫৫), জহুরুল ইসলাম(২৮),তারা শেখ(৫৫),নুরুল আকন্দ(৬৫),মশিদুল ইসলাম(৩৫),ঘোড়শাল গ্রামের রওশন আলী প্রাং (৪০),বাবু প্রাং(৩০),হযরত আলী(৪৫),কালিপুর গ্রামের শামছুল মোল্লা(৬৫),আব্দুস সালাম(৫৫) সহ আরও অনেকের সঙ্গে।
তারা জানান, আমরা দিন আনি দিন খাই। হাতে কাজ থাকলে খাওয়া জোটে, না থাকলে উপোস থাকতে হয়।
এ অবস্থায় প্রতিদিন ভোরে আমরা কাজের খোঁজে খুকনি মন্ডলপাড়া বাজারে এসে বসে থাকি কাজ পাওয়ার আশায়। কিন্তু করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে কেউ আর আমাদের কাজে নিচ্ছে না। ফলে প্রায় ২৪ দিন ধরে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। পরিবারপরিজন নিয়ে আমরা একবেলা আধবেলা খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। এ অবস্থায় হাওরাঞ্চলে ধান কাটা শুরু হয়েছে। সেখানের মানুষ শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে। অথচ আমরা কাজের অভাবে না খেয়ে মরতে বসেছি।
তারা আরো বলেন, প্রতি বছর এ দিনে আমরা হাওরাঞ্চলে ধানকাটার কাজে যাই। সেখানে কাজ করে নগদ টাকাসহ সারা বছরে খাওয়ার জন্য ১০ থেকে ২০ মণ করে ধান বাড়ি আনি। এতে আমাদের অভাব দূর হয়। করোনার কারণে আমরা ধান কাটতে যেতে পারছি না। এ বছর যদি যেতে না পারি তবে সারা বছর আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের ঘরে ঘরে চরম অভাব দেখা দিবে। হাওরাঞ্চলে কাজে গেলে বাড়িতে ২০ দিন থেকে ১ মাসের খাবার রেখে যেতে হয়। এখন এই মুহূর্তে যাওয়ার খরচই নেই। খাওয়া খরচ রেখে যাব কি। তাই সরকারি খরচে আমাদের পাঠানো হলে আমরা কাজ করে ফিরলে পরিবার পরিজন নিয়ে দুবেলা খেয়ে বাঁচতে পারব। তা না হলে সামনে আমাদের আরো ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। সেই চিন্তায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষক বাবুল মিয়া ও তৌহিদুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ সময় দলবেঁধে ধানকাটার জন্য অনেক শ্রমিক তাদের এখানে আসে। বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রাম থেকেই হাজারো ধান কাটা শ্রমিক এ সময় তাদের এখানে ধানকাটর জন্য আসেন। কিন্তু করোনার কারণে যানবহন বন্ধ থাকায় তারা কেউ আসতে পারছে না। এ জন্য এ বছর এখানে প্রচণ্ড শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামের ফুলমিয়া, বাবু মন্ডল, আফছার প্রামানিক জানান, শুধু নন্দলালপুর গ্রাম থেকেই প্রতি বছর আমরা গ্রায় ২ হাজার শ্রমিক এ সময় ধান কাটতে সিলেট ও হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যাই। এ জন্য শীতের সময় তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হই। করোনার কারণে এবার আমরা বিপাকে পড়েছি। এ থেকে তাদের রক্ষায় সরকারি ব্যবস্থায় ও সরকারি খরচে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলে তাদের খুবই উপকার হত।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, যারা নিজ খরচে ধান কাটার কাজে হাওরাঞ্চেলে যেতে ইচ্ছুক। তারা দলবদ্ধ হয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের যাওয়ার জন্য লিখিত অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতিপত্র নিয়ে গেলে তাদের যেতে পথে আর কোন অসুবিধা হবে না।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, সরকারিভাবে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে যারা নিজ খরচে যেতে আগ্রহী তারা আমাদের সাথে যোগায়োগ করলে ইউএনও ও আমার যৌথ স্বাক্ষরে তাদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে যেতে পারছে।