দারিদ্র্যকে জয় করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ১৯৯৩ সালে জন্ম সাতক্ষীরা এক অসচ্ছল পরিবারে। পাঁচ বোনের মধ্যে সাবিনা চতুর্থ । বাবা সৈয়দ গাজী ছোটখাটো ব্যবসা করে কোনো রকমে পরিবার চালাতেন। সেই পরিবার থেকে উঠে এসে সাবিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের অগ্রপথিক। দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশের বাইরে খেলেছেন। করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া মহিলা লিগে বসুন্ধরা কিংসে খেলেছেন সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে, পুরুষদের তুলনায় যা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু অনেকেই যা করেননি সেটাই করে দেখালেন সাবিনা। দারিদ্র্যকে জয় করে নিজেকে চেনানো সাবিনা দেশের বিরূপ পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। গতকাল নিজ জেলা সাতক্ষীরায় ৭০টি পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী। সকালে অসহায় দরিদ্রদের দিয়েছেন চাল, ছোলা, মুড়ি, তেল ও আলু।
লিগ বন্ধ। জাতীয় দলের ক্যাম্পও স্থগিত হয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। তাই এখন সাতক্ষীরাতে নিজ বাসাতেই পরিবারের সঙ্গে সাবিনা। করোনার প্রাদুর্ভাবে স্বল্প আয়ের দরিদ্র মানুষের দুরবস্থা দেখে মন কেঁদে উঠেছে তার। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা বলছিলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছিলাম কিছু মানুষ খাবারের জন্য কষ্ট করছেন। আমি নিজেই তাদের একটা তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্যদ্রব্য কিনে আনি। এরপর আজ (গতকাল) সকালে ডেকে তাদের হাতে সেগুলো দিয়ে দিই।’ সাবিনার বিশ্বাস তার দেখাদেখি সচ্ছল মানুষরাও এগিয়ে আসবেন কঠিন এই সময়ে, ‘আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। সামর্থ্যবানরা যদি তাদের আশপাশের মানুষদের সহায়তা করেন, তাহলে আর কেউ না খেয়ে থাকবে না। সবার প্রতি অনুরোধ এই দুঃসময়ে অসহায়দের পাশে থাকুন।’