চ্যারিটি নিয়ে কখনো কথা বলতে চাই না

ছোট পর্দার সবচেয়ে ব্যস্ত নায়িকা মেহজাবিন চৌধুরী। ২০০৯ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ১৮ বছর বয়সে শোবিজে পা রাখেন তিনি। তার জন্ম ১৯৯১ সালের ১৯ এপ্রিল। গতকালই জীবনের ২৯তম বসন্তে পা দিলেন এই অভিনেত্রী। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

দর্শক চোখে কলেজপড়ুয়া মেয়ে...

বয়স নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই, তাই লুকোচুরিও নেই। কিন্তু দর্শক আমাকে কলেজপড়ুয়া মেয়ে হিসেবে ভাবতেই পছন্দ করে। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনো রোমান্সে ভরপুর আদুরে প্রেমিকা, কখনো জীবন ঘনিষ্ঠ চরিত্রের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে হয় আমাকে। কখনো কাঁদতে কাঁদতেই নাটক শেষ হয়, আবার কখনো হাসি-ঠাট্টার গল্পে কাজ করি। সব মিলিয়েই দর্শকের চোখে আমার এই ইমেজ তৈরি হয়েছে বলেই মনে হয়।

লকডাউনের দিনগুলো...

বছর জুড়েই নানা ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু মহামারী করোনা প্রকোপে সবার মতো থেমে গেছে আমার কাজও। ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছি মাসখানেক। সময়টা কেটে যাচ্ছে, কেটে যায়। পরিবারে এ রকম করে আগে কখনো সময় দেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে কথা বলা, বাসার কোনো একটা কাজ করা, রান্না কিংবা মুভি দেখাÑ এভাবেই কেটে যাচ্ছে সময়।

হাতে নেওয়া কাজগুলো...

আমি যেহেতু শুধু খণ্ডনাটকে কাজ করি, তাই যেকোনো উৎসবে আমার অভিনীত নাটকের সংখ্যা বেশিই থাকে। ঈদের মতো বড় উৎসবের কাজ অনেক আগেই শুরু করতে হয়। বেশ কিছু ঈদের নাটক করে ফেলেছিলাম। আরও অনেক কাজ হাতে ছিল। অনেক কাজের বিষয়ে পরিচালকদের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। শিডিউলও ঠিক করেছিলাম। কতগুলো নাটকের কাজ বন্ধ হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলাটা কঠিন।

টু শব্দ করতে নারাজ...

অসচ্ছল মানুষ খুব খারাপ সময় পার করছেন। সেটা দেশের নাগরিক বা শিল্পী হিসেবে আমাকে অবশ্যই ভাবায়। সামর্থ্যবান মানুষ হিসেবে আমাকে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আর শ্যুটিং বন্ধ থাকার কারণে শ্যুটিংয়ের স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোটা তো আমার কর্তব্য। কিন্তু চ্যারিটি নিয়ে কখনো গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে কথা বলতে চাই না। কারণ দান গোপনে করতে হয়। তবে এই পরিস্থিতিতে যা করা দরকার, তা আমি করার চেষ্টা করছি। যে যে জায়গায় দেওয়া উচিত, সেখানে সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করছি। গতকাল আমার জন্মদিন ছিল। জন্মদিন ঘটা করে উদ্যাপন করলেও মনের মধ্যে একটা আনন্দ কাজ করে। কিন্তু এবার সেই আনন্দটাও নেই। তবে আমার বিশেষ দিনে অসচ্ছল মানুষের জন্য কিছু কাজ করেছি এটাই আমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে।