কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার চানমারী রোডের কাঁচাবাজার। গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ বাজারটি উচ্ছেদ করে। এদিকে কাঁচাবাজার উচ্ছেদ করার কারণে বিপাকে পড়েছে চানমারী রোড ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
স্থানীয় লোকজন জানায়, নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসসংলগ্ন চানমারী রোডে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচাবাজারটি চলে আসছে। প্রায় দেড় শ সবজি বিক্রেতা এ বাজারে পণ্য বিক্রি করে থাকেন। লালখানবাজার ওয়ার্ডের হাই লেভেল রোড, মতিঝর্ণা, চানমারী রোড, বাঘঘোনা ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকার মানুষের জন্য কাছাকাছি আর কোনো কাঁচাবাজার না থাকায় এখন চরম বিপাকে পড়েছে তারা।
খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর গড়ে ওঠা বাজারগুলোতে প্রতিদিন ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই রাস্তার ওপর থেকে বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। আগে থেকে কোনো ধরনের নোটিস না দেওয়ায় বিক্রেতারা এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, উচ্ছেদকালে পুলিশ সদস্যরা অনেকের সবজি ও মাছ রাস্তায় ফেলে দেন এবং বিক্রেতাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চাইলে দোকানগুলোকে দূরে দূরে সরিয়ে দেওয়া যেত। সেই সঙ্গে বাজারে ক্রেতারা যাতে একপথ দিয়ে ঢুকে অন্য পথে বের হয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা যেত। পাশাপাশি বাজারের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। যাতে এলাকার লোকজন তাদের দৈনন্দিন বাজারের চাহিদা মেটাতে পারে।
বাঘঘোনা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে এমনিতে বাইরে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। তার ওপর কাঁচাবাজার উচ্ছেদ করার কারণে এলাকার লোকজনকে বাজার করতে এখন চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। করোনার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে বাজার করার জন্য যেতে হবে অনেক দূরে।