করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় কর্মহীন দিনমজুর এবং দুস্থ মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি বা বেসরকারি-কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
গত বুধবার সকালে ঢুলটিতে ত্রাণের দাবিতে ৬ গ্রামের কয়েকশ মানুষ ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। গত শুক্রবার সাহাপুর মসজিদ মোড়ে একই দাবিতে মানববন্ধন করে কয়েকশ মানুষ। সবশেষ গত রবিবার সলিমপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ করে মানুষ। তারা বলছেন তাদের ঘরে থাকতে বলা হলেও খাবারের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ত্রাণসামগ্রী তারা পাননি।
গত ২৭ মার্চ থেকেই ঈশ্বরদীতেও একরকম লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে বেকায়দায় পড়েন হাজার হাজার দিনমজুর ও অসহায় মানুষ। কর্মহীন অবস্থায় পরিবার নিয়ে বাড়িতেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা চালু হলেও তা অপ্রতুল।
জানা গেছে, সলিমপুর ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম নওদাপাড়া। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। অনেকেরই কর্মহীন অবস্থায় প্রায় এক মাস পার হলেও এ পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি। সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা জানান, এ পর্যন্ত ওই গ্রামে ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া হয়নি এটি সত্য। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চতুর্থ পর্যায়ে সরকারি যে ত্রাণ সহযোগিতা পাওয়া গেছে সেখান থেকে ২২ এপ্রিল ওই এলাকার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরদীর প্রতিটি ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। তালিকা তৈরির পর প্রথম পর্যায়ে একেক ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ মেট্রিক টন চাল। পর্যায়ক্রমে একইভাবে তিন বার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য জানান, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ একেবারেই কম। তারা হিসাব দেখিয়ে বলেন, একটি ইউনিয়নের জন্য ২ মেট্রিক টন চালে কী হয়। ১০ কেজি করে চাল দিতে গেলে পুরো ইউনিয়নে মাত্র ২১৬ জনকে দেওয়া যাবে। তাহলে একেকটি ওয়ার্ডে দেওয়া যাবে মাত্র ২৪ জনকে। গত ৩ বারের বরাদ্দে একেকটি ওয়ার্ডে মাত্র ৭২ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তারা বলেন, একটি ওয়ার্ডে সর্বনিম্ন ৪/৫ হাজার মানুষের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নিম্ন আয়ের মানুষ। কীভাবে এত অল্প চাল দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করা সম্ভব?
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএও) শিহাব রায়হান জানান, চাহিদা অনুযায়ী এ পর্যন্ত অর্ধেক বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা মোতাবেক অবশিষ্ট বরাদ্দ পেলে বাকি মানুষকে চাল দেওয়া হবে।