অনেক বিয়োগান্ত ঘটনাকে হার মানায় ডন অ্যাডায়ারের মৃত্যুর ঘটনা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ডনকে তার ছেলে অ্যাবি অ্যাডায়ার মৃত্যুর আগে একবার দেখতেও পারেননি। কিন্তু মৃত্যুর আগের ৩০ ঘণ্টা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটানা ফোনে কথা বলেছিলেন। একজন নার্স হাসাপাতালের ফোন দিয়ে ডনকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ওই ফোনেই ডন তার তিন সন্তানের সঙ্গে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃত্যুর আগপর্যন্ত কথা বলেন।
সন্তান অ্যাবির ভাষায়, ‘ওটা ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো। এর ফলে অনেকটা কাছে যেতে পেরেছিলাম আমি। আমার যা বলা দরকার ছিল তা আমি বাবাকে বলতে পেরেছিলাম। আমি তাকে দেখতে বা তার হাত ধরতে পারছিলাম না। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ফোনে টানা কথা বলাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঠিক করে কথাও বলতে পারছিলেন না। কিন্তু আমরা তার নিঃশ্বাস শুনতে পারছিলাম। আমরা সবাই একত্রে ছিলাম।’ ডনের সঙ্গে তার তিন সন্তান ডেনমার্ক, টেক্সাস ও উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে কথা বলেছিলেন। আর ডন ছিলেন নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে।
অ্যাবি সিএনএনকে আরও বলেন, ‘বাবাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। যেজন্য আমার ক্ষমা চাওয়ার দরকার ছিল তা আমি চেয়েছি। তার সঙ্গে অনেক স্মৃতি রোমন্থন করেছি, সঙ্গে গানও গেয়েছিলাম। সব ভালো স্মৃতিগুলো তাকে মনে কারিয়ে দিতে চাইছিলাম আমরা। আগে আমরা একসঙ্গে ক্যাম্পফায়ার করে গান গাইতাম। আমি তার গিটার বাজালে তিনি পিটার, ফল ও মেরির গান গাইতেন। আমরা সত্যিই তাকে কষ্টভোগ করতে দেখেছি তার শ্বাসের শব্দ শুনে। নিঃশ্বাস শুনেই আমরা বুঝতে পারছিলাম তিনি বেঁচে আছেন কি না।’ পেশায় অ্যাবি একজন আইনজীবী। যারা নতুন ব্যবসা খুলতে চান, তাদের আইনি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন তিনি। বাবার মতো তিনিও মানুষকে ভালোবাসেন এবং মানুষের জন্য করতে ভালোবাসেন। করোনাভাইরাসে প্রিয় বাবার মৃত্যুতে সন্তানদের যে অনুভূতি তা অ্যাবির ভাষায়, ‘এটা একেবারে পরিষ্কার যে, পরিবারই সবকিছু। আর সবকিছুই ভালোবাসার ব্যাপার।’