কারখানা খোলার খবরে আবার দুর্ভোগের যাত্রায় শ্রমিকরা

রবিবার থেকে খুলছে পোশাক কারখানা- এমন খবরে লকডাউনের মধ্যেও ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে শিল্পনগরী গাজীপুরে ফিরছেন হাজারো শ্রমিক।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশাভ্যান অথবা ছোট যানে করে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকরা।

শনিবার দুপুরে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি, চান্দনা চৌরাস্তা, কাশিমপুর ও টঙ্গী এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন যানবাহনে করে আসতে শুরু করে। এতে এসব এলাকায় শ্রমিকদের ভিড় বাড়তে থাকে।

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার বাড়িওয়ালা রুকনোজ্জামান জানান, গাজীপুরে কড়াকড়িভাবে লকডাউন চলছে। সিটি করপোরেশন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে ঘর থেকে বের না হতে। কিন্তু রবিবার থেকে পোশাক কারখানা খুলবে, এমন খবরে ছুটিতে গ্রামে যাওয়া ভাড়াটিয়ারা আসতে শুরু করেছে। তাদের আসতে মানা করলে ভাড়াটিয়ারা বলছে রবিবার কারখানায় কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে সাহরি খেয়ে দুপুরে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় আসেন আশরাফ উদ্দিন। তিনি রিকশাভ্যানে বিকল্প মাধ্যমে ভেঙে ভেঙে বেলা ৩টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় আসেন। তিনি জানান, গাজীপুর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এমনিতেই এক শ থেকে দেড় শ টাকা ভাড়ায় তিনি যাতায়াত করতেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দু শ টাকা ভাড়ায় খোলা ট্রাকে করে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। শুক্রবার কারখানার সুপারভাইজারকে ফোন দিলে তিনি কারখানায় আসতে বলেন। গাজীপুর আসতে তার সাড়ে চার শ টাকা খরচ হয়েছে।

রায়হানুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক জানান, জামালপুর থেকে জয়দেবপুর আসতে ছয় শ টাকা খরচ হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় লাগত দুই থেকে থেকে আড়াই শ টাকা।

এদিকে ত্রিশাল থেকে শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকায় এসেছেন তাসলিমা ও আরিফ। তারা জানান, কোথাও রিকশাভ্যান আবার কিছু রাস্তা পায়ে  হেঁটে এ পর্যন্ত এসেছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

নেত্রকোনা থেকে টঙ্গীর উদ্দেশ্য যাওয়া শ্রমিক বেলাল হোসেন জানান, জৈনা বাজার থেকে মাওনা পর্যন্ত রিকশাভ্যানে এসেছেন। গাজীপুরে লকডাউনের কড়াকড়ি চলার কারণে জায়গায় জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। রাস্তায় কোনো যানবাহন না থাকায় মাওনা থেকে হেঁটেই টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে সুপারভাইজার মোবাইল ফোনে কারখানায় আসতে বলেছেন। তিনি বাড়ি থেকে রওনা দেওয়ার পর শুনছেন কারখানা নাকি বন্ধ থাকবে। এখন তিনিসহ অনেকেই দ্বিধায় আছেন।

এ দিকে লকডাউনের মধ্যেই শ্রমিকরা কাজে ফেরায় স্থানীয় বাড়ির মালিক অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন। বোর্ড বাজার এলাকার বাড়িওয়ালা আ. জলিল জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই সরকারের নির্দেশ মতো আমাদের এলাকায় লকডাউন কার্যকর রয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা এলাকায় প্রবেশ করায় নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেক বাড়ির মালিক শ্রমিকদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেবে না। হঠাৎ করে শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে চলে আসায় ফলে ভোগান্তি বাড়বে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, শর্ত সাপেক্ষে শ্রমিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে আমরা একটি সরকারি নির্দেশ পেয়েছি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য তিনি থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।