চলতি বোরো মৌসুমে হাওর এলাকায় ৪৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। গতকাল শনিবার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই সাতটি জেলায় এ বছর শুধু হাওরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ১.৯৮ লাখ হেক্টর জমির ধান, যা শতকরা ৪৪ ভাগ। সিলেটে ৫৩, মৌলভীবাজারে ৫৪, হবিগঞ্জে ৩৭, সুনামগঞ্জে ৪৮, নেত্রকোনায় ৫৬ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওর এলাকায় ৩ লাখ ৯ হাজার ২৪৪ শ্রমিক, ৩৫৯টি কম্বাইন হার্ভেস্টার ও ৪৪২টি রিপার ধান কাটার কাজে নিয়োজিত আছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নানান উদ্যোগের ফলে হাওরের কৃষকরা ভালোভাবে ধান কাটতে পারছে। ইতিমধ্যে ৪৪ শতাংশ ধান কেটে তারা ঘরে তুলতে পেরেছে। পরিবহন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা আমরা করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা এসেছেন। শ্রমিকের পাশাপাশি হাওর এলাকায় ধান কাটার জন্য কম্বাইন হার্ভেস্টার ও রিপার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরোদমে ধান কাটা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রি-২৮ জাতের ধান আগে পাকে, এটি কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। ব্রি-২৯ জাতের ধান এখনো পাকেনি, আরও ৭-৮ দিন সময় লাগবে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বা আগাম বন্যা না হলে যে গতিতে ধান কাটা চলছে, আমরা আশাবাদী হাওরের কৃষকরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারবে।
এই ভিডিও বার্তায় কৃষিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন কৃষি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি সামাজিক সচেতনতার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ নানান পেশার মানুষ যারা ধান কাটায় এগিয়ে এসেছেন, কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।