কখনও রেলওয়ে স্টেশনের কুলিদের ত্রাণ বিতরণ করছেন, পাশাপাশি কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে সেই বিষয়ে দিচ্ছেন প্রশিক্ষণ। আবার দায়িত্ব শেষে নিজেই ছুটে যাচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের জন্য। কখনও থানায় সহকর্মীদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতার বিষয়ে ব্রিফিং করছে। আবার গৃহশিক্ষকদের ভোগান্তির কথা শুনে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
করোনাসৃষ্ট এই দুর্যোগে শুধু সচেতনতা নয় মানবিক সহায়তা করে নজর কেড়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া।
এর মধ্যে শনিবার চট্টগ্রামে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত জেনারেল হাসপাতালে জীবাণুমুক্তকরণ গেট স্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
রবিবার সকাল থেকে জীবাণুমুক্তকরণ বিশেষ গেটটি চালু করেছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে সরকারিভাবে জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়া জন্য ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে।
সেখানে ইতিমধ্যে ১০টি আইসিইউ শয্যার একটি ইউনিটও সংযুক্ত হয়েছে। কিন্তু ছিল না কোনো জীবাণুমুক্তকরণ গেট। তাই এই কাজে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি।
এ বিষয়ে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, আমাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্ত এবং উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের চিকিৎসা হয়।
তবে কোনো জীবাণুমুক্তকরণ গেট ছিল না। এটির স্থাপনের ফলে চিকিৎসক নার্স ও অফিসের অন্যান্য কর্মীদের সুরক্ষা দিচ্ছে। ফলে সবাই আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদের সবার মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে থানার ওসির এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। এ রকম একটি গেট আমাদের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালে রোগীর পাশপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুস্থ ও সুরক্ষার প্রয়োজন। তারা সুস্থ থাকলেই রোগী সুস্থ থাকবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, মরণব্যাধি করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ অবস্থায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ রাখতে জেনারেল হাসপাতালে জীবাণুনাশক একটি গেট স্থাপন করা হয়েছে। এ গেটের ভেতর দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রবেশ -বাহির হবে ফলে সকলে জীবাণুমুক্ত নিরাপদ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সবাই জেনারেল হাসপাতালে। আমি যখন জানতে পারি চিকিৎসকদের জন্য এখানে জীবাণুনাশক কোনো বিশেষ চেম্বার বা গেট নেই, তখন বিএসআরএমের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এটি স্থাপন করি।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড সত্যি মানবিক। উনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা ভেবেছেন।