কল্যাণ, ক্ষমা ও সৌভাগ্যের মাস আমাদের মধ্যে উপস্থিত। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রমজানের মহামূল্যবান সময়গুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুবিধার্থে একটি তালিকা দেওয়া হলো, যেন সুযোগ-সুবিধা মতো এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখা যায়।
ফজরের আগে
এক. আল্লাহর দরবারে তাওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া করা। কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন, ‘কে আছে আমার কাছে দোয়া-প্রার্থনাকারী, আমি তার দোয়া কবুল করব।’ (মুসলিম)
দুই. সাহরি খাওয়া। নবী (সা.) বলেন, ‘সাহরি খাও। কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারি, মুসলিম)
ফজরের ওয়াক্তের পর
এক. ফজরের সুন্নত আদায় করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা আছে তার থেকে উত্তম।’ (মুসলিম)
দুই. ইকামত পর্যন্ত দোয়া ও জিকিরে মশগুল থাকা। নবী (সা.) বলেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ)
তিন. ফজরের নামাজ আদায়। নবী (সা.) বলেন, ‘তারা যদি ইশা ও ফজরের ফজিলত জানত; তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এতে উপস্থিত হতো।’ (বোখারি ও মুসলিম)
চার. সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির-তিলাওয়াতে মগ্ন থাকা। ‘প্রিয়নবী (সা.) ফজর নামাজের পর নিজ স্থানেই সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করতেন।’ (মুসলিম)
পাঁচ. সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়ল, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করল, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, তার জন্য এটি একটি পূর্ণ হজ ও ওমরার মতো সওয়াব।’ (তিরমিজি)
ছয়. কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে নিজের কাজে (সম্ভব হলে) যোগ দেওয়া। মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিজ হাতের কর্ম দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার নেই।’ (বোখারি)
জোহরের সময়
এক. জোহরের নামাজ আদায়। অতঃপর কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত কিংবা ধর্মীয় বই পাঠ।
দুই. আসর পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়া। কারণ রাসুল (সা.) বলেন, তোমার ওপর তোমার শরীরেরও হক আছে।
আসরের সময়
এক. আসরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সম্ভব হলে ঘরোয়া মসজিদে পরিবার বা সঙ্গীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখা কিংবা নিজে শোনা অথবা পরস্পর আলোচনা করে জ্ঞান অর্জন করা।
নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে ভালো কিছু শিক্ষা নিতে কিংবা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গেল, সে পূর্ণ এক হজের সমান নেকি পেল।’ (তাবারানি)
দুই. পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারির আয়োজনে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে কাজের চাপ হালকা হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়।
মাগরিবের সময়
এক. ইফতারি করা এবং এই দোয়া পড়া : ‘জাহাবাজ জামাউ ওয়াব তাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহু তায়ালা।’ অর্থ : তৃষ্ণা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ)
দুই. সম্ভব হলে মাগরিবের নামাজ আপাতত ঘরোয়া জামাতের সঙ্গে আদায় করা। নামাজের আগে ইফতারি পূর্ণ শেষ না হলে বাকি ইফতারি নামাজের পর সেরে নেওয়া যায়। এরপর সন্ধ্যায় পঠিতব্য জিকির-আজকার পাঠ করে নেওয়া।
তিন. স্বভাব অনুযায়ী রাতের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারাবির নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
এশার সময়
এক. জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করা।
দুই. ইমামের সঙ্গে সম্পূর্ণ তারাবির নামাজ আদায় করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও পুণ্যের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, (তারাবি পড়বে ) তার বিগত সব (ছোট গুনাহ) ক্ষমা করা হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)
তিন. সম্ভব হলে বিতরের নামাজ শেষ রাতে পড়া। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা বিতরকে রাতের শেষ নামাজ করো।’ (বোখারি ও মুসলিম)
অবশ্য কারও শেষ রাতে পড়া সম্ভব না হলে, তারাবির পরপর আদায় করে নেওয়া যায়।