কৃষকের ঋণে ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি

করোনাভাইরাস সংক্রমণে কৃষি খাতের ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃষিঋণের সুদে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে কৃষি ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত থেকে এ ধরনের ঋণের সুদে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। ফলে কৃষকপর্যায়ে এ ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। কৃষিঋণে সরকারের পক্ষে ৫ শতাংশ সুদ ক্ষতিবাবদ ভর্তুকি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে। এর ফলে গ্রাহকপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদ আদায় করবে ব্যাংক।

টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছে ব্যাংকগুলো। এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ৯ শতাংশ। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কৃষকের অনুকূলে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় শস্য ও ফসল খাতে সুদহার কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সব কৃষকই এ সুবিধার আওতায় ঋণ পাবেন।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কৃষি খাতে শস্য ও ফসল চাষের জন্য কৃষকপর্যায়ে স্বল্প সুদে ঋণ সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক।

আমদানির বিকল্প ফসল (ডাল, তেলবীজ, মসলাজাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষ করার জন্য কৃষকপর্যায়ে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। এখন আমদানি বিকল্প ফসলের পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান, গমসহ সব দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল ফসল চাষের জন্যও সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় কৃষকপর্যায়ে প্রণোদনা হিসেবে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে কৃষিঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রকৃত সুদ-ক্ষতি বাবদ ৫ শতাংশ হারে সুদ-ক্ষতি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কৃষকদের রেয়াতি সুদহারে কৃষিঋণ প্রদানসংক্রান্ত এ স্কিমের মেয়াদ হবে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কৃষকপর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। ওই সুদহার চলমান এবং নতুন ঋণগ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে ২০২১ সালের ৩০ জুনের পর চলমান ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বাভাবিক সুদহার প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কোনো ঋণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনাদায়ী থাকলে তার ওপর রেয়াতি সুদহার প্রযোজ্য হবে না।

কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী, ধান, গমসহ সব দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল ফসল চাষের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আগের বছরের মতো নিজস্ব উৎস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত তাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষকপর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণ করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তাদের প্রকৃত সুদ-ক্ষতি অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধা প্রাপ্য হবে।

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য ১২ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরই কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন স্কিম গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার অনুসারে, ১৮ মাস (৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ) মেয়াদি এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৪ শতাংশ।