ইরানের দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

নতুন সংঘাতের শুরু থেকে ইরানে ৫ম দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গত বুধবার রাতভর ইরানের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা চালানো হয়। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশমে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ হয়েছে বন্দর আব্বাস নগরীতে। হরমুজ প্রণালির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী সিরিকেও হামলা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান প্রদেশের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক এবং রাস্ক থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। জবাবে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা ও জ্বালানি ডিপো এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সমাবেশ লক্ষ্য করে এ হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সেখানে থাকা একটি প্রারম্ভিক সতর্কবার্তা রাডারব্যবস্থা লক্ষ্য করেও তারা হামলা চালিয়েছে তারা। তবে এ হামলার বিষয়ে পেন্টাগন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর ট্রাম্পের নৌঅবরোধ পুনরায় কার্যকর করার প্রথম দিন ছিল গত বুধবার। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের প্রথম দিনেই এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। জাহাজ চলাচলের তথ্য ও উপাত্ত প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী যেখানে মঙ্গলবার ১৩টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছিল, সেখানে বুধবার তা কমে মাত্র ৭টিতে দাঁড়ায়। এদিকে, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অবশিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সেনাবাহিনীর খতম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে আইনভঙ্গ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বহিরাগত শক্তিকে হরমুজে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান। তার ভাষায়, ইরানের জন্য এটি অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত