করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটির আওতায় দেশের প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকলেও সচল রয়েছে সিলেট বিভাগসহ সারা দেশের চা বাগানগুলো। ১৬৬টি চা বাগানের প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক এ ভয়াবহ দুর্যোগের সময়েও কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ছুটি পাননি। বিষয়টি নিয়ে চা শ্রমিক নেতারা শুরুতেই আপত্তি জানালেও তা মানা হয়নি। এখন করোনায় চা শ্রমিক পরিবারের এক শিশু এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। চা শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে মজুরি-রেশনসহ সব শ্রমিককে ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চা শ্রমিক নেতারা জানান, মহামারী করোনা ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু দেশের চা বাগানগুলোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ১৩৪টি চা বাগানসহ সারা দেশের ১৬৬টি বাগানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে। নেতারা জানান, চা শ্রমিকরা এমনিতেই নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন এবং তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সেই শ্রমিকরা বিশ্বের চলমান করোনা মহামারীর ব্যাপারে অনেকটা অন্ধকারেই রয়েছেন। তারা তেমন কোনো তথ্য পান না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।চা শ্রমিক স্বপন কৈরী বলেন, ‘সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হলেও আমাদের বলা হচ্ছে বাগানে যাও, কাজ করো।’
এদিকে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজদের কৈরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হরিনারায়ণ হাজরা গত রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন ও দাবি উপেক্ষা করে মালিকগোষ্ঠী তাদের অতি মুনাফার লোভে করোনা মহামারীর মধ্যে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করছেন, যার কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন ১০ লাখ চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী। চা জীবনরক্ষাকারী এমন কোনো জরুরি পণ্য নয় যে, এ দুর্যোগের মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।