এবার করোনার বিরুদ্ধে ময়দানে নামল নাসা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাইপ্রেশার ভেন্টিলেটর তৈরি করেছে আমেরিকার এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীন হলেও এই মারণ জীবাণু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমেরিকার। সে দেশে মৃতের সংখ্যা ছড়িয়েছে ৫০ হাজার। আক্রান্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ। মৃতের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে ভেন্টিলেটরের অভাবকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অত্যন্ত জরুরি মেশিনটি পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকলে অনেক করোনা আক্রান্তকেই বাঁচানো যেত বলেই মনে করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে নাসা। নাসার ‘জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি’র ডিরেক্টর মাইকেল ওয়াটকিন্স বলেন, ‘আমরা মহাকাশ যান নির্মাণে দক্ষ। চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করি না। তবে উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আমাদের দখল ও লাগাতার পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যেকোনো যন্ত্রের প্রোটোটাইপ নির্মাণে আমাদের দক্ষতা এই কাজে সাহায্য করেছে। দেশের এমন বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসামগ্রী নির্মাণের গুরুত্ব আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা বুঝতে পেরেছেন এবং এটাকে নিজের কর্তব্য বলেই মনে করছেন তারা।’
এরই মধ্যে নাসার তৈরি ভেন্টিলেটর কভিড আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহারও শুরু করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তাতে সাফল্যও মিলছে। নাসার প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর সমাদৃত হচ্ছে আমেরিকার চিকিৎসক মহলেও। নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক শহরের হাসপাতালগুলোতে চাহিদামতো ভেন্টিলেটর ছিল না বলে বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এমন নিদারুণ চেহারা প্রকাশ্যে আসতেই ভেন্টিলেটর তৈরির প্রকল্প হাতে নেন নাসার গবেষকরা। মাত্র ৩৭ দিনের মধ্যেই আধুনিক ভেন্টিলেটর তৈরি করে ফেলে সংস্থাটি। চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের স্কুল অব মেডিসিনে নাসার ভেন্টিলেটর পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেন চিকিৎসকরা।