৫ বছর ধরে চাল আত্মসাৎ করছেন ডিলার

তালিকায় ৫৬০ জনের নাম থাকলেও দেড় শতাধিক সুবিধাভোগীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের এক ডিলারের বিরুদ্ধে। ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ৫ বছর ধরে চাল আত্মসাৎ করছেন ডিলার হামিদুল রহমান। এর প্রতিকার চেয়ে গজারিয়ার ৪০ জন ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, ভিক্ষুকসহ দুস্থ কার্ডধারী পরিবারের ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল কর্মসূচির ৭৫ মেট্রিক টনের বেশি চাল আত্মসাৎ করেছেন এই ডিলার।

বাউশি গ্রামের ছবিয়া, কায়ছার, স্বপ্নাসহ কয়েকজন জানান, নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালেই স্বাক্ষর করে কার্ড জমা নিয়েছেন ডিলার হামিদুল রহমান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার মো. হামিদুল রহমান বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। অভিযুক্ত ট্যাগ অফিসার ও গজারিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত রহমান বেনজিনের মোবাইল ফোনে গতকাল শনিবার বিকেলে কয়েকবার কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ফুলছড়ি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সুন্দরগঞ্জের আলাউদ্দিন বসুনিয়া বলেন, অভিযুক্ত ডিলার হামিদুল রহমান অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। এ জন্য এপ্রিল মাসের চাল বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানকে। অভিযুক্ত ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত রহমান বেনজিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান দোলন বলেন, তদন্তে তারা দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।