বাংলাদেশে সমালোচিত ‘এক্সট্র্যাকশন’ নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হিসেবে রেকর্ড গড়তে চলেছে। ২৪ এপ্রিল অনলাইনে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম চার সপ্তাহে দেখা হতে পারে ৯ কোটিবার।
টুইটারে নেটফ্লিক্স ফিল্ম অ্যাকাউন্ট থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
‘এক্সট্রাকশন’-এর আগে ‘সিক্স আন্ডারগ্রাউন্ড’ ও ‘মার্ডার মিস্ট্রি’ মুক্তি পায়। প্রথম চার সপ্তাহের মধ্যে মাইকেল বে অভিনীত ‘সিক্স আন্ডারগ্রাউন্ড’ দেখে ৮ কোটি ৩০ লাখ পরিবার। অন্যদিকে প্রথম তিনদিনে অ্যাডাম স্যান্ডলার ও জেনিফার অ্যানিস্টনের ‘মার্ডার মিস্ট্রি’ দেখা হয় ৩ কোটি অ্যাকাউন্ট থেকে।
তবে ‘এক্সট্র্যাকশন’ এই সব রেকর্ড ভেঙে দেবে বলেই মনে করছেন নির্মাতারা। চার সপ্তাহে মিলতে পারে ৯ কোটি ভিউ।
ইতিমধ্যে অ্যাকশন মুভিটির প্রযোজক জো এবং অ্যান্টনি রুশো টুইটারে নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অবশ্য নেটফ্লিক্সে প্রিমিয়ারের দিনেই সিনেমাটি পাইরেসি সাইটে ফাঁস হয়ে যায়। সেখান থেকে কতবার ডাউনলোড হয়েছে জানা যায়নি।
স্যাম হারগ্রেভের পরিচালনায় এই ছবির প্রধান চরিত্রে আছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। সঙ্গে আছেন রণদীপ হুদা, প্রিয়াংশু পেইনউলি, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, ডেভিড হারবার ও গুলশিফতেহ ফারাহানি।
ভারত-বাংলাদেশের দুই ড্রাগলর্ডের লড়াই নিয়ে এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত। পর্দায় দেখানো বেশির ভাগ দৃশ্য ঢাকার শহরের বলা হলেও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে আসেনি বলে অভিযোগ।
তরুণ এক ড্রাগলর্ডের কথায় ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মিলিটারি যেভাবে তৎপরতা দেখায়- তাকে দেশের জন্য অপমানজনক ও বাস্তবতা বিবর্জিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দর্শকেরা। শিশুদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়ন ও অন্য কিছু বিষয়কে আফ্রিকার সন্ত্রাস উপদ্রূত এলাকার সঙ্গে তুলনা করছেন। যা কোনোভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
পাশাপাশি ঢাকার চরিত্রদের উচ্চারণ নিয়ে কথা উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রোডাকশন ডিজাইনে ঢাকা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব ফুটে উঠেছে।
সাড়ে ৬ কোটি ডলার বাজেটের সিনেমাটির মূল দৃশ্যায়ন হয়েছে ভারত ও থাইল্যান্ডে। ঢাকার কিছু দৃশ্য আলাদাভাবে ধারণ করে পরে জুড়ে দেওয়া হয়।
জো রুশো গল্পটি লিখেছিলেন প্যারাগুয়ের প্রেক্ষাপটে এক দশক আগে। গল্পটি ভারত-বাংলাদেশে এনে ফেলা হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। নেটফ্লিক্স এখন প্রবলভাবে ভারত-কেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহী। কারণ বিগত আর্থিক বছরে সেখানে নেটফ্লিক্স যতটা আয় করবে ভেবেছিল, তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবসা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। তাই গল্পের প্রেক্ষাপট বদলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও বাংলা কানেকশন রেখেছেন দুই ভাই জো এবং অ্যান্থনি রুশো।
ঢাকায় ধারণ করা দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল অভিনেতা তারিক আনাম খানের প্রতিষ্ঠান। ভাষাগত পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।