তামিমকে আউট করার রহস্য বললেন না রিয়াদ

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বন্দি হয়ে থাকা এই সময়ে বেশ জমে উঠেছে তামিম ইকবালের ইন্সটাগ্রাম লাইভ শো। রবিবার রাতে অবশ্য বলছিলেন, সোমবার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে ফেইসবুকে লাইভ করার ইচ্ছে। তামিমকে অনেকে অনুরোধ করেছেন সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেইসবুকেই রোজকার লাইভটা করতে। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে শনিবার রাতের আড্ডার পরদিন রাতে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

খেলপ্রেমীরা দেশের দুই অধিনায়কের আড্ডা থেকে না জানা অনেক কিছু জেনেছেন। তবে আগের দিন অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে একসঙ্গে খেলা ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যেমন জমিয়ে তুলেছিলেন ততটা মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে হয়নি। কথায় কথায় মজা করতে পছন্দ করা তামিমকে একটু পরিমিত থাকতে হয়েছে।

‘বোঝেনই তো রিয়াদ ভাই আমার সিনিয়র।’ লাইভের শেষ অংশে মাহমুদউল্লাহকে বিদায় জানিয়ে দর্শককে তামিম বলছিলেন, ‘অনেক ফাইজলামি তাই তার সঙ্গে করা যায় না।’

তবে যে দুষ্টুমি দিয়ে তামিম শুরু করেছিলেন তাতে সফল হতে পারেননি। একটি গল্প বললেন। ২০০২-০৩ সালের দিকে বাণিজ্য মেলায় চটপটি খেয়ে নাকি কল্পনার বাইরের বিল দেখে বন্ধুর সঙ্গে দৌড়ে পালিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। যাকে নিয়ে এই গল্প সেই মাহমুদউল্লাহ তা মোটেও স্বীকার করছেন না দেখে তামিমের শেষ স্বগতোক্তি, ‘তাহলে আমার সোর্স ভুল।’

মাহমুদউল্লাহ ৬-এ ব্যাট করেন। বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে সবচেয়ে কম আলোচিতজন তিনি। কিন্তু দলের অনেক জয়ে তার বড় ভূমিকা। খুব কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ব্যাটিংয়ে। সেটার যথাযথ মূল্যায়ন মেলেও না। ‘আনসাং হিরো’ থেকে যান। তামিম দলগতভাবে সেই স্বীকৃতি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ‘আমাদের দেশে আমরা কেবল ৭০-৮০ বা সেঞ্চুরিকেই মূল্যবান মনে করি। কিন্তু আপনি এদিক থেকে মাঝেমধ্যে দুর্ভাগা, আমার মনে হয়। আপনার ৩০-৩৫ রানের যে ইনিংসগুলো আছে, হয়তো অতটা কৃতিত্ব পায় না, কিন্তু আমরা যারা টিমমেট, আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে আপনার ওই ইনিংসগুলো কতটা মূল্যবান।’ তামিম যোগ করেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওসব ইনিংস ৭০-৮০ রানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি এটা বলতে চাই, আমরা টিমমেটরা যারা আছি, আপনার এই ৩০-৪০ রানও নিঃস্বার্থভাবে খেলা, উইকেটে গিয়েই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, আপনাকে নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি।’

মাহমুদউল্লাহ স্মরণ করেন সাবেক কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহেকে। তামিমের এক প্রশ্নের জবাবে বলতে গিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজের আরও উন্নতির জন্য ওই কোচকে কৃতিত্ব দেন। ‘তোর নিশ্চয়ই মনে আছে, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (২০১৬) আগে আমরা খুলনায় একটা ক্যাম্প করেছিলাম।’ মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘ওই সময়ে হাতুরুর সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়। ওর সঙ্গে নানা কিছু নিয়ে কাজ করি। খুব কাজে দিয়েছিল ওই সময়টা। এরপর আরও স্বচ্ছন্দে আমি বড় শট খেলতে থাকি।’

হাতুরু বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তার আচমকা চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারেননি। ক্রিকেটাররাও না। তামিম যেমন সেই ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে হারের পর হাতুরুর বাঁকা হাসির জবাবে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। পরের সকালে হোটেলের লবিতে গুরু-শিষ্যের দেখা। তামিমের দিকে ছুড়ে দেওয়া হাতুরুর ট্রেডমার্ক বাঁকা হাসিতে ছিল খোঁচা। তামিম বলেছিলেন, ‘এত হেসো না। আমরা তোমাদের দেশে গিয়ে তোমাদের হারিয়ে আসব।’

পরে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা উৎসব পালনের নিদাহাস ট্রফিতে কলম্বোতে শোধ তুলেছিল বাংলাদেশ। তামিম সেটি উল্লেখ করেন। লঙ্কানদের হারিয়ে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন তারা।

তামিম আইপিএলের প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদউল্লাহকে বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় এটা আপনার দুর্ভাগ্য যে আইপিএলে আপনি ডাক পাননি।’ মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে তো সবাই খেলতে চায়। বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি লিগ। সবাই চায় সেরা টুর্নামেন্টে নিজেকে দেখতে। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো সুযোগ আসবে।’ মাহমুদউল্লাহ কথায় কথায় তামিমকে প্রশ্ন করেন, ‘কোন বোলারকে দেখলে তোর মনে হয় মারি, মেরে ফাটিয়ে দেই।’ কিছু না ভেবেই তামিমের জবাব, ‘উমেশ যাদব। ওকে দেখলেই আমার মারতে ইচ্ছা করে।’

তামিমকে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায়ই আউট করেন অফস্পিনার মাহমুদউল্লাহ। অথচ অফস্পিনের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটসম্যান তামিম। আড্ডার এই সুযোগে তামিম জানতে চান এর পেছনে রহস্য কী? মাহমুদউল্লাহ রহস্য উন্মোচন না করে সেটিকে গোপনই রেখে বলেন, ‘তোকে যদি গৎবাঁধা বোলিং করি, তুই আমাকে একেবারে মেরে ফেলবি। তুই তো অফস্পিনারদের তুলোধুনো করে ফেলিস।’