করোনায় রপ্তানি বন্ধ

বিপাকে খুলনার ব্যবসায়ীরা

করোনার প্রভাবে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে খুলনার ব্যবসায়ীরা। প্রতিনিয়ত কমছে চিংড়ির বাজারদর। লোকসানের বোঝা বাড়ছে পাটকলগুলোতে। শঙ্কায় কুঁচে ও কাঁকড়াখামারিরাও।

খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা, বাগেরহাটের মোংলা, সাতক্ষীরার পারুলিয়া, উজিরপুর, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জ বাজারের ডিপোগুলোতে প্রচুর কাঁকড়া ও কুঁচে বিক্রি হয়। চীনে রপ্তানি হয় এসব পণ্য। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুঁচে, কাঁকড়ার কেনাবেচায় ধস নেমেছে দেশের বাজারে। ফলে স্থানীয় বাজারে দাম পাচ্ছেন না খামারিরা। আগে প্রতি কেজি কাঁকড়া বিক্রি হতো ২ হাজার টাকায়, এখন তা নেমেছে ৩০০-৪০০ টাকায়।

খুলনা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র জানায়, গত মাসে চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ৯৯৫ টন। গত বছরের একই সময় দক্ষিণাঞ্চল থেকে ১০৪ কোটি টাকার ১ হাজার ৩১৫ টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৫-৩০ মার্চ মোংলা বন্দর থেকে দুটি জাহাজে ইউরোপে সাত কন্টেইনার চিংড়ি রপ্তানি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় দুই জাহাজে চিংড়ি রপ্তানি হয় ৩০-৩৫ কন্টেইনার। ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৯০টি অর্ডার (এলসি) বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

খুলনা জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানায়, গত বছর জেলায় প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হলেও এবার তা কমে প্রায় ১০ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে।

মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, খুলনা অঞ্চলের কাঁকড়া ও কুঁচে সরাসরি ঢাকা থেকে রপ্তানি হয়। রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে উৎপাদনের পরিমাণ দেখে বোঝা যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক চাষি রপ্তানি বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন হোসেন বলেন, গত বছর এই উপজেলায় ৩১০ হেক্টর জমি থেকে ২ হাজার ১৯০ টন ও সুন্দরবন থেকে ১ হাজার ১০৯ টন কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়। এলাকায় এবার কাঁকড়াচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যও দ্বিগুণ ধরা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রপ্তানি বন্ধ থাকায় সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটকলগুলোতে আর্থিক সংকট বাড়ছে। প্রায় ২৭০ কোটি টাকার পাটপণ্য অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ জুট মিলে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমানেও মজুরি কমিশনসহ সব মিলে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। করোনার কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এক মাসে প্রায় ২৬ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয় মিলগুলো।

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, এক মাসে খুলনা অঞ্চলের ৯ মিলে ২৬ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ সময় শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিতে পারেননি। এ কারণে উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে গেছে। এখন আবার উৎপাদনে ফিরতে বেশ সময় লাগবে। সব মিলিয়ে অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।