জনপ্রিয় নির্মাতা মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ফ্যামিলি ক্রাইসিস নাটকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এনটিভিতে প্রচারিত এ নাটকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে নাটকটির চরিত্র রায়হান, ঝুমুর, শেফালি খালা, পারভেজও। কিন্তু সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে নাটকটির প্রচার বন্ধ রয়েছে। ফ্যামিলি ক্রাইসিসের বিভিন্ন চরিত্র অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, রুনা খান, শামীম হাসান সরকার, জিয়াউল হক পলাশ, সারিকা সাবা প্রমুখ।
২ মে ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’র একটি বিশেষ ভিডিও আপ করা হয়েছে ইউটিউবে। বিশেষ ভিডিও নিয়ে দেশ রূপান্তরকে রাজ বলেন, ‘মূলত মানুষকে করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সতর্ক করতেই এটি বানানো হয়েছে। হাস্যরসের মধ্য দিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করতে চেয়েছি। শিল্পীরা নিজেদের ঘরে বসেই মোবাইলে শ্যুটিং করেছেন। যার যার জায়গা থেকে মোবাইলে ভিডিও করে পাঠিয়েছেন। এটা করার পেছনে বেসিক্যালি কোনো কারণ নাই। সাধারণভাবে একটি বার্তা দিতেই এমন ভিডিও করা হয়েছে। রেসপন্স ভালোই পেয়েছি।’
করোনা-পরবর্তী নাটকের অবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত রাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এখন বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। বেঁচে থাকার পর দেখেতে হবে ইন্ডাস্ট্রির কী হয়। শুধু আমরা নই, সারা বিশ্বই আতঙ্কে আছে। আমরা যারা নাটক-সিনেমা বানাই তাদের নির্দিষ্ট কোনো আয় নেই। অথচ যারা চাকরি করেন তারা কিন্তু এই ঈদে বেতন-বোনাস ঠিকই পাবেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে দ্রুত কিছু হবে তা মনে হয় না। অনেক সময় লাগবে অবস্থা স্বাভাবিক হতে। আর করোনা-পরবর্তী শ্যুটিংয়ের অবস্থা কী হবে সেটা এখনই বলা যাবে না। কারণ শ্যুটিং করতে গেলে অনেক মানুষ নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রত্যেকটা মানুষের যাওয়া-আসার জন্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করতে হয়। একটা জায়গা থেকেই সবার খাবার আসে। এছাড়াও একজন মেকআপম্যান প্রায় ৮-১০ জন আর্টিস্টের মেকআপ করেন। নানা বিষয় আছে যেগুলো করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশাল ঝামেলার জন্ম দেবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকটা মানুষের থাকা-বসার ব্যবস্থা করা। এগুলো নিয়েও চিন্তা করতে হবে। কারণ হাউজের লোক, ট্রান্সপোর্টের লোক, শ্যুটিংয়ের লোক সবাই নানা জায়গা থেকে এসে একত্রিত হবে। এরপর আরেকটা বিষয় হচ্ছে, রাস্তাঘাট, হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় শ্যুট হয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে হয়তো আমাদের গল্পের প্যাটার্ন চেঞ্জ করতে হবে, ইউনিট ছোট করতে হবে। এখনো জানি না মূলত কী হবে। তবে এগুলো আমার প্রাথমিক ধারণা।’