হাওরে ধানের দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জ হাওরে পুরোদমে চলছে ধান কাটার কাজ। ইতিমধ্যে জেলায় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। কিন্তু এবারও হাওরে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে সঠিক সময়ে ধান কেনা শুরু হবে কি না, কিংবা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে কৃষকরা ধান দিতে পারবেন কি না এ নিয়েও দুশ্চিন্তা ভর করছে সুনামগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে।

গত বুধবার কৃষিমন্ত্রী ডা. আবদুর রাজ্জাক ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সুনামগঞ্জে এসে ধান ক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তবে এখনো কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়নি। সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় কম দামেই ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। গত শনিবার জেলার কোথাও প্রতি মণ ধানের মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার বেশি ছিল না। এমন কম দামেও অনেক কৃষকই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৪ মেট্রিক টন। এবার সুনামগঞ্জে কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে বোরো ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ধান কেনা হবে ১০৪০ টাকা দরে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ১০ মে তালিকাভুক্ত কৃষকদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে ১১ তারিখ থেকে ধান ক্রয় শুরু হবে বলে জানায় খাদ্য বিভাগ।

তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর এলাকার কৃষক সিদ্দিক মিয়া বলেন, এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। অথচ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। ধান কাটার খরচ মেটানো, মহাজনের ঋণ শোধ করা এবং দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য ধানের খলা থেকেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ প্রতি বছরের মতো এবারও নিচ্ছে কিছু ফড়িয়া ও ব্যবসায়ী।

সুনামগঞ্জে হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ধান উৎপাদন হবে ১২ লাখ মেট্রিক টন, সরকারিভাবে কেনা হবে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এর বাইরে থেকে যাবে বিপুলসংখ্যক কৃষক। তাই সরকারিভাবে ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। সরকারি গুদামে ধান দিতে গিয়ে কৃষকরা যে হয়রানির শিকার হন তা বন্ধ করতে হবে।

জেলা ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ জানান, ধান ক্রয়ের জন্য কৃষকের তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় ধান কেনা শুরু করা যায়নি। কৃষকদের এখনই ধান বিক্রি না করারও অনুরোধ জানান তিনি। ১০ তারিখের মধ্যে তালিকার কাজ শেষ করে এই সপ্তাহ থেকেই ধান কেনা শুরু হবে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানান, এবার হাওরে ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের পরিমাণ অতি নগণ্য। এর পরিমাণ অন্তত ৫০ হাজার মেট্রিক টন বাড়াতে হবে। নয়তো কৃষকরা ধানের মূল্য পাবে না। এতে হাওরে ধান চাষাবাদে আগ্রহ হারাবে কৃষক।