রূপগঞ্জে ইউপি সদস্য হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে খুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি হত্যা মামলাসহ এক ডজন মামলার আসামি সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

এ হত্যাকান্ডের জের ধরে আনোয়ারের সন্ত্রাসীরা বাহিনীর সদস্যরা এলাকাজুড়ে পৈচাশিক তান্ডব চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা পুর্বগ্রামের চার শ বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাংচুর চালায় লুটপাট করে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। 

বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পুর্বগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের মৃত বাদশা মাঝির ছেলে।  এ হামলা ভাংচুরে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। 

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় অজিউল্লাহ (৪৫) নামের এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বিউটি আক্তার কুট্রি ও তার স্বামী হাসান মুহুরী হত্যা মামলাসহ এক ডজন মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন গত আট মাস ধরে পুর্বগ্রাম আশোক আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন। আনোয়ার হোসেন চনপাড়া এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। আনোয়ার হোসেনকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার সানাউল্লাহ নামে এক ব্যাক্তি।

এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আনোয়ারের সঙ্গে সানাউল্লাহর বাক-বিতন্ডা হয়। পরে সানাউল্লাহ ও তার ভাই সালাউদ্দিন মিলে পুনরায় এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী আনোয়ারের ডান হাত জয়নাল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সালাউদ্দিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

এদিকে, এ ঘটনার জেরেই বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পুর্বগ্রাম এলাকার সানাউল্লার পক্ষের লোক অজিউল্লাহ’র সঙ্গে আনোয়ারের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে অজিউল্লাহ ধারালো ছুড়ি নিয়ে আনোয়ারের বাসায় প্রবেশ করে আনোয়ারকে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে পরিবারের লোকজন মুমূর্ষ অবস্থায় আনোয়ারকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুর ২টার দিকে আনোয়ারের ক্যাডার বাহিনীর অন্যতম সদস্য জয়নাল, মানিক ও রাজার নেতৃত্বে প্রায় ৭ শ থেকে ৮শ সদস্য রামদা, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুর্বগ্রামজুড়ে পৈচাশিক তান্ডব চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তানভীর, খোকন মিয়া, চাঁন মিয়া, বাদল মিয়া, মজিবর, রাসেল, জাকির, মহসিন, জাকির মিয়া, মনির, জসিম উদ্দিনসহ প্রায় ৪’শ বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট করেন। এ সময় এলাকায় নারী-পুরুষরা ভয়ে ও আতঙ্কে ছুটাছুটি করতে থাকে। এ সময় হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি ফ্রিজসহ মালামাল লুটে নেয়। বাঁধা দিতে গিয়ে পুর্বগ্রামের জহিরুল, সহিদ, আমজাত, আলামিন, হানিফ, চাঁন মিয়া, শাহিনসহ প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের পৌছে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এদিন বিকেলে পুর্বগ্রাম এলাকার মৃত সাহাজ উদ্দিনের ছেলে অজিউল্লাহকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। 

এলাকাবাসী জানান, যারা হামলা চালিয়েছে তারা চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের আনোয়ার বাহিনীর সদস্য। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করাই তাদের অন্যতম কাজ। 

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের প্রবেশ মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলেও পুলিশ মোতায়েন করেছি। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া যাতে আর কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যপারে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।