‘কভিড-১৯ পার্টি’ নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

প্রাণঘাতী কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যখন বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে তখন ভয়াল এই রোগটি নিয়ে মাতোয়ারা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের উন্মত্ত কিছু জনতা। ‘কভিড-১৯’ নামে পার্টি আয়োজন করে মাস্তি-মৌজ করছে তারা! বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জন উইসম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই মহামারির মধ্যে এভাবে জড়ো হওয়া অবিশ্বাস্যরকম বিপজ্জনক হতে পারে। এতে মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।”

“সর্বোপরি, যারা কভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছেন তারা ফের এই ভাইরাস থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুরক্ষিত কি-না বিষয়টি এখনো অজানা। এই ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের এখনো অনেক কিছু জানার বাকি।”

ওয়াশিংটনের দক্ষিণ-পূর্ব সিয়াটল থেকে ২৬০ কিলোমিটার দূরে ওয়ালা ওয়ালা কাউন্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওখানে প্রায় একশোজন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, যারা ইচ্ছা করেই এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে বা ‘কভিড-১৯ পার্টি’ করে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসছেন। এমন খবর পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ওয়াশিংটনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জন উইসম্যান।

‘কভিড-১৯’ পার্টির উদ্দেশ অদ্ভুত। যারা আক্রান্ত হয়নি আক্রান্তদের সংস্পর্শে এনে তাদের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়!

“এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যা ধীরে ধীরে আমাদের অঙ্গরাজ্য খুলে দেওয়ার সক্ষমতা আরও শ্লথ করে দিতে পারে।”

বুধবার ওয়ালা ওয়ালা কাউন্টিতে ৯৪ জন নতুন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, মৃত্যু হয়েছে একজনের। ওই কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক মেগান ডিভোল্ট জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ভাইরাসে সংস্পর্শে আসার জন্য পার্টিতে গিয়েছিলেন।

“আমরা জানি না, কখন এটা এসব ঘটছে। আক্রান্ত হওয়ার পর আমরা বিষয়গুলো জানি। আমরা যখন বলি, আপনারা কারও সংস্পর্শে এসেছিলেন কি-না। এমন প্রশ্নে ২৫ জন বলেছেন- ‘আমরা কভিড পার্টিতে গিয়েছিলাম’।”

এসব দায়িত্বহীন আচরণ বলে উল্লেখ করেন মেগান। কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া রোধে বাসিন্দাদের যথাযথ শারীরিক দূরত্ব ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করার বলা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

“এই সময়ে আমাদের কমনসেন্স কাজে লাগানো দরকার। এই মহামারি এড়াতে আমাদের আরও বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে, যাতে আমরা আমাদের কমিউনিটিকে ফের খুলে দিতে পারি। ‘কভিড-১৯’ পার্টি সমাধানের কোনো অংশ নয়।”

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ১২ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৩ হাজার।